Header AD
Trending

ভোটের মুখে নাগরিকত্ব ইস্যুতে নয়া পদক্ষেপ, পশ্চিমবঙ্গে এমপাওয়ার্ড কমিটি গঠন কেন্দ্রের

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নাগরিকত্ব প্রশ্নে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের আবহে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে রাজ্যভিত্তিক একটি এমপাওয়ার্ড কমিটি (Empowered Committee) গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs)। শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ওই নির্দেশে জানানো হয়েছে, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫ এবং নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের জন্য ছয় সদস্যের একটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি তৈরি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই কমিটির প্রধান হবেন ডিরেক্টরেট অফ সেনসাস অপারেশনস, পশ্চিমবঙ্গের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল। সদস্য হিসেবে থাকবেন—

সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর এক আধিকারিক (অন্তত ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার),

ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের মনোনীত এক জন আন্ডার সেক্রেটারি স্তরের আধিকারিক,

ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের রাজ্য তথ্য আধিকারিকের মনোনীত প্রতিনিধি (আন্ডার সেক্রেটারি পদমর্যাদার),

পশ্চিমবঙ্গের পোস্ট মাস্টার জেনারেল বা তাঁর মনোনীত কোনও ডেপুটি সেক্রেটারি স্তরের পোস্টাল আধিকারিক।

এছাড়া আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে থাকবেন রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সচিব বা অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের দপ্তরের এক প্রতিনিধি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নাগরিকত্ব বিধির নিয়ম ১১এ ও ১৩এ কার্যকর করার উদ্দেশ্যেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ জারি হওয়া পূর্ববর্তী নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারিত হবে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ, যাচাই এবং প্রক্রিয়াকরণে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

তবে রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব আইনকে সামনে রেখে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির কৌশল নিয়েছে কেন্দ্র। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায় ও বাংলাদেশ থেকে আগত বহু বাসিন্দার নাগরিকত্ব প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে বিষয়টি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

উল্লেখযোগ্য, নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে আগামী ১০ মার্চ। তার আগেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে বাংলার রাজনীতিতে।