লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে অপসারণের প্রস্তাবে সায় দিল তৃণমূল কংগ্রেস! সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের সঙ্গে অনাস্তা প্রস্তাবে সই করবে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল। তৃণমূলের মতে, সংসদের কার্যপ্রণালী এবং বিরোধী দলের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ নিয়ে অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের আপত্তি রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে একযোগে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে তা কখনই বিজেপির মতো স্বৈরাচারী পথে অনাস্থা নয়। লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার আগে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ ও তার পরে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla, Speaker) বিরুদ্ধে যে অনাস্থা প্রস্তাবে সম্মতি তৃণমূলের রয়েছে, তাও তিনি দিল্লি থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। এবার অনাস্থা প্রস্তাবের আগে দলীয় ভাবে ঘোষণা করা হল, অনাস্থা প্রস্তাবে (no confidence motion) স্বাক্ষর করবেন তৃণমূলের সব সাংসদরা।
সোমবার থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হতে চলেছে। এই পর্বে ফের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)-র অপসারণের দাবি নিয়ে সরব হতে চলেছে বিরোধী শিবির। সংসদের ভিতরে যেমন এই বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা হতে পারে, তেমনই বাইরে রাজনৈতিক মহলেও তা নিয়ে চর্চা বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।গত মাসে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব চলাকালীন কংগ্রেসের উদ্যোগে একাধিক বিরোধী দল একজোট হয়ে লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব আনার জন্য নোটিস জমা দেয়। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব আনতে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চাইলেও তা প্রায়ই খারিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার দিনেই অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে তাদের দাবি। এই কারণেই স্পিকার ওম বিড়লার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। বিরোধী শিবিরের দাবি, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-সহ বিরোধী সাংসদদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। এমনকি বিরোধী দলের মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধেও অযৌক্তিক অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের আরও দাবি, শাসকদলের সাংসদদের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, অথচ বিরোধী সাংসদদের প্রায়ই পুরো অধিবেশন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
৯ মার্চ, সোমবার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে এই বিষয়টি লোকসভায় আলোচনার তালিকায় রয়েছে। সেই দিনই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এছাড়াও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে লোকসভার ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে। তাদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে গত সাত বছর ধরে লোকসভায় ডেপুটি স্পিকারের পদ খালি রয়েছে, যা সংসদের গণতান্ত্রিক প্রথার পরিপন্থী।
জানা গিয়েছে, এই অনাস্থা প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই ১১৮ জন বিরোধী সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। প্রথমে সেখানে তৃণমূলের সাংসদদের স্বাক্ষর ছিল না। তবে শনিবার তৃণমূলের দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সম্মতিতে তৃণমূলের সমস্ত সাংসদও এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে চলেছেন। সেক্ষেত্রে আরও ২৯ জন তৃণমূল সাংসদের সমর্থন যোগ হতে পারে।
সংসদের দুই কক্ষেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে বিরোধী শিবির। সেই প্রেক্ষাপটেই লোকসভা স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের প্রশ্নে বিরোধীরা আরও একজোট হয়ে আন্দোলন জোরদার করতে চলেছে।




