যুবভারতীকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। এই ঘটনায় বিরোধীদের সিবিআই তদন্তের দাবিও খারিজ করল আদালত। রাজ্য সরকার এই ঘটনার তদন্তের জন্য যে তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে দিয়েছে, তাদের কাজে এখনই হস্তক্ষেপ করছে না আদালত। কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়। তদন্তের এই অবস্থায় সিট যে পক্ষপাতদুষ্ট, তা বলা যায় না। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ফের মামলার পরবর্তী শুনানি।
যুবভারতীর ঘটনা নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক জনস্বার্থ মামলার শুনানি ছিল সোমবার। এই সংক্রান্ত শুনানিতে হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ ১৭ পাতার রায় দেয়। পর্যবেক্ষণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেন জানান, আইন মেনে সিট গঠন করা হয়েছে। পুলিশের কাজ তদন্ত করা, তা চলছে। প্রাথমিক স্তরে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আসে না। সিটকে তার কাজ করতে দেওয়া উচিত বলেই মনে করেন বিচারপতিরা। তাই এনিয়ে এখনই কোনও হস্তক্ষেপ করছে না আদালত।
গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে লিওনেল মেসির আগমন ঘিরে বেনজির বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। চড়া দামে টিকিট কেটেও আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ঘিরে থাকা ‘ভিআইপি’-দের দুর্গ ভেদ করে তাঁকে দেখতে পাননি অনুরাগীরা, এমনটাই অভিযোগ। সেদিন কিছুক্ষণের মধ্যেই মেসি মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দর্শক। স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ ওঠে আয়োজকদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার হন মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। চটজলদি একাধিক পদক্ষেপ করে রাজ্য সরকার। ঘটনার তদন্তে রাজ্যের দক্ষ আইপিএসদের নিয়ে তৈরি হয় সিট। আর এই সিটের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের গঠিত কমিটির ক্ষমতা নেই। তারা সঠিক তদন্ত করতে পারবে না। তাই পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করুক আদালত। আরও কয়েকজন জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে দাবি তোলেন, এই তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানো হোক। আদালত জানায়, আইন মেনেই রাজ্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। গেজেট নোটিফিকেশনও রয়েছে। আইন অনুযায়ী, এমন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। তার পরেই হাই কোর্ট সিবিআই তদন্তের আর্জি খারিজ করে।





