Header AD

যাঁরা জিতিয়েছে তাঁদের প্রতি দায়িত্ব নেই! পরিযায়ীদের হেনস্তা প্রসঙ্গে ‘স্টপেজ মিনিস্টার’ সুকান্তকে কটাক্ষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

“এখানে তৃণমূল, বিজেপি কীসের! রাজনীতি করা মানে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছে তাঁদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব, কর্তব্য নেই?” মহারাষ্ট্রে ৭ মাস জেল খেটে আসা বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) পাশে নিয়ে বিজেপি সরকারের মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বুধবার সুকান্ত মজুমদারের এলাকায় গিয়ে অভিষেকের হুঁশিয়ারী, “আপনি প্রাক্তন হবেন। বালুরঘাটের মানুষের জন্য কী করেছেন জবাব দিন। আপনার রিপোর্ট কার্ড কোথায়? আপনার বুথ সভাপতি প্রাক্তন হয়ে গেলে আর খোঁজ নেবেন না? সাত মাস এঁরা জেলে রইলো আপনি কী করছিলেন? আপনাকে বলা সত্ত্বেও কিছুই করেননি। আপনার দায়িত্ব নেই!”

বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন বিধানসভা কেন্দ্রে মহারাষ্ট্রে সাত মাস জেল খাটা বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়ি যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার ও গৌতম বর্মণকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদ। অসিত এবং গৌমতকে তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সাংবাদিকদের সামনে বলার সুযোগ দেন অভিষেক। এরপরই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। বলেন “এরা শুধু ভাষণবাজি করে। এদের কোনও দায়িত্ব নেই। এঁরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মহারাষ্ট্রে কাজ করছে। এঁরা সমস্যার মুখে পড়েছিল। এদের পরিবার সুকান্ত মজুমদারকে ধরেছিল। কিন্তু তিনি বলেছেন, জেল হয়েছে, মেয়াদ শেষ হলে ছেড়ে দেবে। তাহলে কি বিজেপির কোনও দায়বদ্ধতা নেই! এখানকার সাংসদ বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। মহারাষ্ট্রেও বিজেপির সরকার। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস বা তাঁর কোনও রাজ্য সভাপতিকে সাহায্য করতে বলেনি বালুরঘাটের সাংসদ। এঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আইনি লড়াই করে ফিরিয়ে আনি। বিজেপি সাংসদ একবার ফোন করেও খবর নেয়নি।”

এদিন অভিষেকের সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রে হেনস্তার শিকার বিজেপির প্রাক্তন বুথ সভাপতি গৌতম বর্মণ। গৌতমের অভিযোগ, “মহারাষ্ট্রে আটক হওয়ার পরে আমরা ফোন করেছিলাম। কিন্তু বিজেপির কেউ ফোন ধরেননি। সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও কোনওরকম সাহায্য করেননি।” এর প্রতিবাদে এদিন সুকান্তকে কটাক্ষ করে ‘স্টপেজ মিনিস্টার’, ‘ফ্যাশান শো মিনিস্টার’ বলে কটাক্ষ করে গর্জে উঠে অভিষেক বলেন, “সমস্যার কথা শুনলে আমি তাদের পাশে দাঁড়াবো না?এখানে তৃণমূল, বিজেপি কীসের। রাজনীতি করা মানে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যাঁরা আপনাকে জিতিয়েছে তাঁদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব, কর্তব্য নেই?” এরপরই সোনালি বিবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন “সোনালি খাতুনের সঙ্গে দেখা করেছি। তাঁর অপরাধ শুধু বাংলায় কথা বলা। সোনালি খাতুন আমাকে যে বর্ণনা দিয়েছে তা শিউরে ওঠার মতো। দিল্লি পুলিশ পাঠাচ্ছে বিএসএফের কাছে। তারা মেরেছে। কেউ সাহায্য করেনি। তাঁকে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে মুক্তি দিতে হয়েছে। একইভাবে মুর্শিদাবাদের ছেলে জুয়েল রানাকে ওড়িশায় পিটিয়ে মারা হয়েছে। ছয় থেকে আট মাসে প্রায় ১২০০ অভিযোগ এসেছে। মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।এরা বিভাজনের রাজনীতি করছে।”