ভোটের আবহে থাকা পাঁচ রাজ্যের কথা মাথায় রেখেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য সংস্কারমুখী বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তবে কর কাঠামো বা মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি স্বস্তি—এমন কোনও বড় ঘোষণা এদিন শোনা যায়নি। চমকহীন, তুলনামূলকভাবে সাদামাটা বাজেট হিসেবেই একে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও বাজেট বক্তৃতার মাঝে পর্যটন ক্ষেত্রকে চাঙ্গা করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক পর্যটনকে আরও প্রসারিত করতে বিভিন্ন পর্যটনস্থলকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বারাণসী ও অযোধ্যায় আধ্যাত্মিক পর্যটনের সাফল্যের পর এবার উত্তর-পূর্ব ভারতের চার রাজ্য—অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরা জুড়ে বৌদ্ধ সার্কিট গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়।
১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে নির্মলা সীতারমণ জানান, ঐতিহাসিক পর্যটনস্থলগুলিকে একসূত্রে গাঁথার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার দিকেও জোর দেওয়া হবে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হসপিটালিটি ও হোটেল ম্যানেজমেন্টে পরিকাঠামো জোরদার করার পাশাপাশি অন্তত ১০ হাজার পর্যটন গাইডকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
বাজেট মানেই সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে। এ বছরও ব্যতিক্রম হয়নি। একাধিক পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি কিছু পণ্যে পুরোপুরি করছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। আবার আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে কিছু পণ্যের আমদানি কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে কিছু বিদেশি পণ্যের দাম বাড়তে পারে, অন্যদিকে দেশীয় পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে নেশাজাত পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। মদ, বিড়ি, সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে চিকিৎসাক্ষেত্রে বেশ কিছু ওষুধের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলতে পারে।
এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ বৃদ্ধির অন্যতম ক্ষেত্র মহাকাশ গবেষণা। এ বছর মহাকাশ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে ৬ হাজার ১০৩ কোটি টাকা খরচ হবে মহাকাশ গবেষণায়। চন্দ্রযান ও মঙ্গল অভিযানে সাফল্যের পর আগামী দিনে আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগোতে চাইছে ভারত। ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদের মাটিতে ভারতীয়ের পা পড়ার লক্ষ্য আগেই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবারের বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন বলে মনে করছে মহল।
কর ব্যবস্থার সরলীকরণে বরাবরই জোর দিয়ে এসেছে মোদি সরকার। এ বছরও আয়কর কাঠামোয় বড় কোনও পরিবর্তন না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল—আগামী ১ এপ্রিল থেকে চালু হচ্ছে নতুন আয়কর আইন। এই আইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অডিট হয়নি এমন ব্যবসা বা ট্রাস্টের ক্ষেত্রে সময়সীমা ৩১ অগস্ট।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা—ছোটখাটো কর ফাঁকির ক্ষেত্রে আর জেল হবে না। শুধুমাত্র ১০ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা দিলেই নিষ্পত্তি হবে বিষয়টি। দুর্ঘটনার ইনসুরেন্স ক্লেম বা সরকারি ক্ষতিপূরণে আর কোনও কর দিতে হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় খানিক হতাশ মধ্যবিত্ত। তবে কর প্রক্রিয়া সহজ করা ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য স্থির করাই যে এবারের বাজেটের মূল সুর—তা স্পষ্ট।





