দুর্যোগ কাটিয়ে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে পাহাড়। পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়াচ্ছে উত্তরবঙ্গে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল পর্যটন মরশুম। তবে প্রবল বর্ষণের জেরে দার্জিলিং,কালিম্পং, ডুয়ার্স এবং সিকিমের পর্যটনে কার্যত খরা দেখা দেয়। ভূমিধ্বস , হড়পা বানের আতঙ্কে বাতিল হয় বহু বুকিং। উত্তরের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গও ভেসেছে প্রবল বর্ষণে।
পুজোর মরশুমে লম্বা ছুটি থাকায় অনেকেই উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে হাওয়া বদলের জন্য যান। তবে এবছর চিত্রটা ছিল অন্যরকম। প্রবল বর্ষণ, ধ্বসের কবলে পড়ে উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা। ফলে মানুষ আর ঝুঁকি নিতে চায়নি। কোন বুকিং এ সাড়া মিলছিল না তেমন।
এবার ধীরে ধীরে চিত্রটা বদলাচ্ছে। বিপর্যয়ের কালো ছাঁয়া সরে গিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় এবার পর্যটন। পর্যটকদের অনেকেই উত্তরবঙ্গসহ সিকিমের চুংথাং, ফোদং গুম্ফা, সেভেন সিস্টার ফলস , লাচুং , ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার , ইউমথাং এর জন্য বুকিং এর খোঁজ খবর করছেন।
দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় খান্না বলেন, “শীতের বুকিংয়ের জন্য বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটকরা ফোনে খোঁজ নিচ্ছেন। রুম বুকিং করছেন। আশা করছি ধীরে ধীরে পাহাড়ে ভিড় বাড়বে।”
দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেল, দার্জিলিং পাহাড়ে সাড়ে তিনশো হোটেল রয়েছে। কালিম্পংয়ে রয়েছে দুশো। প্রতিটি হোটেলেই এখন বুকিং চলছে। পাহাড়ে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। দার্জিলিং ও কালিম্পং মিলিয়ে দু’হাজারেরও বেশি হোম-স্টে রয়েছে। সেখানেও পর্যটকরা বুকিংয়ের জন্য খোঁজ নিচ্ছেন।
রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, “পর্যটনের সঙ্কট কাটতে চলেছে। আপাতত বলতে পারি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাহাড়ে ভিড় থাকবে। ডিসেম্বর থেকে আরও ভিড় বাড়বে। বুকিংয়ের জন্য যেভাবে খোঁজ চলছে তাতে মনে হচ্ছে এবার ভিন রাজ্যের পর্যটকদের ঢল নামবে।”
বিপর্যয়ের ফাঁড়া কাটিয়ে উঠেছে সিকিমের বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। সিকিমে এখন কাজ করছে ১ হাজার ৭২৫ টি ট্রাভেল এজেন্সি। পর্যটকদের থাকার জন্য হোটেলগুলিতে ৩৮ হাজার ২০৮ টি শয্যা রয়েছে। এছাড়াও পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াতের জন্য ছোট গাড়ি, ট্যাক্সি থেকে শুরু করে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার গাড়ি।
গ্যাংটকের পর্যটন কর্মী নবীন ছেত্রী জানিয়েছেন, পুজোর মরশুম খুব খারাপ কেটেছে। কয়েকদিন থেকে বুকিংয়ে ভালো সাড়া মিলছে। আশা করছি ক্রমশ ভিড় বাড়বে ।





