এবার থেকে সকালের পাশাপাশি সন্ধ্যাবেলাতেও বসবে সুফল বাংলার স্টল। বৃহস্পতিবার নবান্নে টাস্ক ফোর্সের বৈঠকের পর একথা জানান রাজ্যের কৃষি বিপণণমন্ত্রী বেচারাম মান্না (Becharam Manna)। তিনি জানান “শুধু সকালে নয়, এখন প্রচুর মানুষ সন্ধ্যাবেলাতেও বাজার করেন। তাঁদের কথা ভেবেই সন্ধ্যাতেও কলকাতার একাধিক বাজারের বাইরে সুফল বাংলার স্টল বসানো হবে। থাকবে ভ্রাম্যমাণ গাড়িও। একইসঙ্গে ৫০টা স্টল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে ৭৫০টি মতো স্টল রয়েছে। এবার তা বাড়িয়ে ৮০০ করা হবে।” আপাতভাবে এই সুফল বাংলার স্টল বা গাড়ি থাকবে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাজার গুলির বাইরে ।
শীত পড়া সত্ত্বেও এবার বাজারে জিনিসপত্রের দাম উর্ধ্বমুখী। সবজি, ডিম কিনতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যেই যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Baneerjee)। এবার তাঁরই নির্দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন টাস্কফোর্সের সদস্যরাও। সেখানে সবজি থেকে ডিমের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এখনই ডিমের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা জানান মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণেই ডিমের দাম বেড়েছে । তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে , মুরগির খাবারই একমাত্র কারণ হতে পারে না। কারণ, যথেষ্ট ভালো ভুট্টা উৎপাদন হয় আমাদের রাজ্যে। তার জোগানের অভাবও নেই।
উল্লেখ্য, প্রতিবছরই ডিসেম্বর মাসে ডিমের দাম কিছুটা বাড়ে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছরে ডিমের দাম সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ডিমের দাম পিস প্রতি ৮ টাকা। এবিষয়ে নজরদারি চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই টাস্কফোর্স-এর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই দাম বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শীতের বাজারে আলুর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য সবজির দামে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি বেগুনের দাম উঠেছিল ১০০ টাকা প্রতি কেজি। বর্তমানে তা কিছুটা কমে ৮০-৯০ টাকা হয়েছে। এছাড়াও শীতের বেশির ভাগ সবজি যেমন টমেটো, কড়াইশুটি, শিম, গাজর, বিনস, ক্যাপসিকাম থেকে শুরু করে অন্যান্য সবজিরও দাম বাড়ছে চড়চড়িয়ে। ফুলকপির দাম এখন ৩০ – ৩৫ টাকা প্রতি পিস। দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের দাবি, বাজারে শীতের সবজির যোগান বৃদ্ধি পেলে তবেই দাম নিম্নমুখী হবে। এই আবহে শহরে সন্ধ্যেবেলাতেও সুফল বাংলার স্টল হওয়াতে কিছুটা সুরাহা হবে সাধারণ মানুষের।





