ছিনতাইকারীদের রুখতে গিয়ে ডান হাতের অর্ধেক খোওয়ালেন হাওড়া-পুরী ধৌলি এক্সপ্রেসের যাত্রী সরমা হাজরা। সরমার স্বামী অরূপ হাজরা জানান, রবিবার সকালে খড়্গপুর যাওয়ার জন্য হাওড়া থেকে ১২৮২১ ধৌলি এক্সপ্রেস ধরেছিলেন তাঁরা। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার কাছে তাঁর স্ত্রী ছিনতাইকারীদের খপ্পরে পড়েন। সরমার গলার হার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুজন। সরমা বাধা দিতে গেলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় ট্রেন থেকে। যার ফলে ডান হাতের অর্ধেক কাটা পড়েছে তাঁর। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন সরমার স্বামী। দুটো হাসপাতাল ঘুরে এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন এখন বেহালার ওই বাসিন্দা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাত বাদ যাওয়ার ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে সরমার। এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এসএসকেএম সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক বার রক্ত দিতে হয়েছে সরমাকে। তিনি এখন রয়েছেন ট্রমা কেয়ারের রেড জোনে। চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছেন। দুর্ঘটনার পর সরমাকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল খড়্গপুর রেলওয়ে হাসপাতালে। সেখানেই শুরু হয় প্রাথমিক চিকিৎসা । এরপর তাঁকে নিয়ে আসা হয় গ্রিন করিডর করে কলকাতায়। সেখানে প্রথমে সরমাকে ভর্তি করানো হয়েছিল কোঠারি মেডিক্যাল সেন্টারে। এরপর রবিবারই স্থানান্তর করা হয় এসএসকেএমে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সরমার ডান হাত মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবারই তাঁকে একবার রক্ত দিতে হয়েছে। সোমবার আবারও একবার রক্ত দেওয়া হয়েছে। এমন একটি ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মহিলা। আপাতত তাঁর সমস্ত রকমের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , ধৃত সামসাদ মহম্মদ এবং মহম্মদ ইমরানকে সোমবার তমুলক আদালতে হাজির করানো হয়েছে। হাওড়ার দুই বাসিন্দার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৪(২), ৬২, ১১৭ (৩) এবং ১২৫(বি) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।





