Header AD

বাংলার মানুষ দিল্লির জল্লাদদের কাছে মাথানত করবে না’ নদীয়া থেকে দিল্লিকে বার্তা অভিষেকের

সল্ট লেকে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি ( আইপ্যাক)-এর দফতর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) হানা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার নদীয়ার তাহেরপুরের জনসভা থেকে এই প্রসঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে সাহায্য করছে বলেই আইপ্যাকের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে ইডি। তাঁকে, তাঁর স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মাকে বারংবার ইডি’র হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তাই আবার ইডি-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের হেনস্তার চেষ্টা চলবে, এই আশঙ্কাও রয়েছে। তবে তিনি বা তৃণমূলের কেউ যে ‘দিল্লির কাছে’ মাথানত করবেন না, এ কথাও ফের একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার নদিয়ার তাহেরপুর সভা করেন অভিষেক। সেই সভা থেকেই বৃহস্পতিবারের ইডি হানা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। অভিষেকের  অভিযোগ, “তৃণমূলের জন্য একটা সংস্থা কাজ করে। এই ভোটে যাতে মানুষের অসুবিধা না-হয় তারা তৃণমূলের জন্য ‘দিদির দূত’ নামে একটা অ্যাপ তৈরি করেছে। কেন তারা এসআইআরে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে, কেন গরিব মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে, তাই গতকাল ইডি পাঠিয়ে রেড করিয়েছে।“

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর এই তাহেরপুরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার তাহেরপুরে নামতে না-পারায় কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরে গিয়ে ফোনে ভাষণ দেন মোদি। শুক্রবার সেই প্রসঙ্গ তুলেও খোঁচা দেন অভিষেক। তাঁর দাবি, সভাস্থল ভরতে গিয়ে নদীয়া মুর্শিদাবাদ থেকে লোক আনতে বিজেপিকে নাকানিচোবানি খেতে হয়েছিল। কিন্তু তৃণমূলকে তা করতে হয়নি। মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এসেছেন। এই মাঠে যে দিকে চোখ যাচ্ছে, মানুষ আর মানুষ। এর দ্বিগুণ মানুষ রাস্তায়। তাঁরা এখনও পৌঁছতে পারেননি সভায়। শুধু রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার শক্তিতে নদিয়ার এত মানুষ ছুটে এসেছেন সভায়। এই ছবি পরিষ্কার জানান দিচ্ছে আগামী দিনে নদিয়া তৃণমুলময় হতে চলেছে।’’

ইডিকে পাঠিয়ে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে অভিযোগ তুলে SIR নিয়েও সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, “ইডিকে পাঠিয়ে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে আর ইসি (নির্বাচন কমিশন)-কে পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করছে। ওরা ভাবছে, ‘ইসিকে দিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেব। ইডি লাগিয়ে বিরোধীদলের কণ্ঠরোধ করব।’ ইডি, সিবিআই, ইসি দিয়ে চমকাচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, মিডিয়া, বিচারব্যবস্থা ইনক্যাম ট্যাক্স, অর্থব্যবস্থা আছে লাগাও। তোমাদের সব আছে। কিন্তু মানুষ সঙ্গে নেই। আমাদের কিচ্ছু নেই। সঙ্গে মানুষ আছে। বাংলার মানুষ  বিজেপির জল্লাদ আর দিল্লির জমিদারদের কাছে মাথা নত করবে না।’’ ইডির তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন, আমার স্ত্রী, বাবা-মা-বাচ্চা, কাউকে ছাড়েনি। আমরা অন্য ধাতুতে তৈরি। আমাদের মেরুদণ্ড ‘নট ফর সেল।’ এরপর কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিজেপির রাজ্য কমিটির নেতা বলছে মায়েদের বন্দি করে রাখো। কে কাকে বন্দি করবে, যেদিন ব্যালট বাক্স খুলবে সেদিন বুঝবে।“ সবশেষে নদিয়াবাসীর উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “প্রার্থী কে হবে ভুলে যান। প্রতিটি ভোট জোরাফুলে দেওয়া মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্তিশালী করা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১৭টি আসনের ১৭টিতেই তৃণমূলকে জেতাতে হবে।“