রাতের শহরে নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আরও একধাপ এগচ্ছে পুলিশ। এবার থেকে রাতবিরেতে মহিলাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবেন মহিলারাই! বিপদের আঁচ পেলেই ‘গোলাপি বুথ’ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়বেন মহিলা পুলিশকর্মী ও আধিকারিকরাই। সারা শহরজুড়ে পুলিশের ‘পিঙ্ক বুথ’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিল লালবাজার। সেইমতো প্রস্তুতি শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের প্রত্যেকটি ডিভিশনই।
রাতের শহরে মহিলারা যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, তার জন্যই শহরে চালু হচ্ছে ‘পিঙ্ক বুথ’। লালবাজার সূত্রে খবর, কলকাতার দশটি ডিভিশনেই এই ‘পিঙ্ক বুথ’ তৈরি হবে। একেকটি ডিভিশনে দুটি করে। মোট কুড়িটি ‘পিঙ্ক বুথ’ কলকাতার কোথায় কোথায় বসানো হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমীক্ষা করা হয়েছে। লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন, মূলত নারী নিরাপত্তার কারণে এই বুথগুলি তৈরি করার কারণেই সেগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিঙ্ক বুথ’। সারা রাত চালু থাকবে এই বিশেষ বুথ। বুথের দায়িত্বে থাকবেন একজন পুলিশ আধিকারিক। সঙ্গে থাকবেন তিন থেকে পাঁচজন মহিলা পুলিশকর্মী। রাতের শহরে কোনও মহিলা বিপদে পড়লে, যেতে পারেন ওই ‘পিঙ্ক বুথে’। কিছুক্ষণের জন্য সেখানে আশ্রয় পাবেন তিনি। যদি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, ‘পিঙ্ক বুথ’-এর পুলিশকর্মী ও আধিকারিক সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় জানাবেন। প্রয়োজনে তখনই জানানো হবে লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে। আবার রাতে কোনও মহিলা বাড়ি যাওয়ার জন্য যানবাহন না পেলে ‘পিঙ্ক বুথে’র পুলিশকর্মীরা গাড়ি ডেকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছনোর ব্যবস্থাও করবেন বলে খবর পুলিশ সূত্রে।
একইসঙ্গে প্রত্যেকটি থানায় মহিলাদের উপর অপরাধের ক্ষেত্রে মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের ‘নোডাল অফিসার’ বানানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ-পূর্ব ডিভিশনের প্রত্যেকটি থানায় এই ‘নোডাল অফিসার’ তৈরি করা হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, কলকাতার আরও ‘ন’ টি ডিভিশনে চালু হচ্ছে এই ব্যবস্থা। পুলিশকর্তাদের মতে, মহিলা সংক্রান্ত কোনও অপরাধ, বিশেষ করে যেখানে অভিযোগকারীই হচ্ছেন মহিলা, সেখানে অনেক সময়ই থানার আধিকারিকদের কাছে পুরো বিষয়টি বলতে সংকোচ বোধ করেন অভিযোগকারী। সেই ক্ষেত্রে থানার মহিলা সাব ইন্সপেক্টরের সামনে নিঃসঙ্কোচে পুরো অভিযোগ জানাতে পারবেন তিনি। ওই মহিলা পুলিশ আধিকারিক নিজে ওই বিশেষ মামলার তদন্তকারী আধিকারিক না হলেও ‘নোডাল অফিসার’ হিসাবে সংযোগের কাজ করতে পারবেন।





