Header AD

 জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো বাধ্যতামূলক, নতুন নির্দেশ কেন্দ্রের

এবার থেকে সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ বাজলে সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হবে। এই মর্মে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশনের পরেই ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো বাধ্যতামূলক হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সব সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুলের অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে এই নিয়ম মানতে হবে। যেখানে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকবেন, সেখানে তাঁর আগমন ও প্রস্থানের সময়েও ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করতে হবে। পাশাপাশি, পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও এই জাতীয় গান বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সিনেমা হলে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো বাধ্যতামূলক নয় বলে স্পষ্ট করেছে মন্ত্রক।

নতুন নিয়মে আরও জানানো হয়েছে, এবার থেকে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ ছ’টি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে, যার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ১৯০ সেকেন্ড (৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড)। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে ও পরে, রাজ্যপাল বা উপরাজ্যপালের আগমন-প্রস্থানের সময়, নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান এবং কুচকাওয়াজের সময় এই গান বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, যেসব অনুষ্ঠানে আগে শুধুমাত্র জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হতো, সেখানে এখন প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরে ‘জন গণ মন’ পরিবেশন করা হবে। এই সময় উপস্থিত সকলকে উঠে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমবেত কণ্ঠে গান গাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সকালের প্রার্থনা বা স্কুলের বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতীয় গান সমবেতভাবে গাওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। এতে পড়ুয়াদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মানবোধ বাড়বে বলে মত কেন্দ্রের।

উল্লেখ্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় গানের মর্যাদা আরও জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও এই নির্দেশিকা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।