Header AD

আর জি কর কাণ্ডে দোষী সঞ্জয়ের ভাগ্নির রহস্যমৃত্যু! তদন্তে পুলিশ

কালীপুজোর সন্ধ্যায় মর্মান্তিক ঘটনা দক্ষিণ কলকাতায়! ঘরের আলমারি থেকে দশ বছরের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল। ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুর থানার বিদ্যাসাগর কলোনি এলাকায়। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পরই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশে আসে। জানা গিয়েছে মৃতা আর জি কর কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের ভাগ্নি। পাশাপাশি মৃতা নাবালিকার ঠাকুমার বিস্ফোরক অভিযোগ ‘অত্যাচার করত সৎ মা’। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ।

মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীটি রবিবার সন্ধ্যা থেকে বাড়িতে একাই ছিল। রাত্রি সাড়ে আটটা নাগাদ বাড়িতে ফেরেন মেয়েটির মা। তবে মেয়েকে দেখতে পাননি। অনেকবার ডাকাডাকিও করেন। তবুও সাড়া পাননি। অনেকক্ষণ ধরে খোঁজার পর তাঁর চোখ যায় ঘরের বড় আলমারিটির দিকে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি আলমারিটি খোলেন এবং চমকে ওঠেন। তিনি দেখেন, আলমারির ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে দশ বছরের মেয়ের নিথর দেহ।মহিলা সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁর চেঁচামেচির আওয়াজে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও। সূত্রের খবর, রাতেই দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত করা হয় সোমবার।

এরপরই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, সঞ্জয় রায়ের দিদির সঙ্গ বিয়ে হয়েছিল নাবালিকার বাবার। কয়েকবছর আগে মৃত্যু হয় বধূর। এরপর শ্যালিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ওই ব্যক্তির। শ্যালিকাকে বিয়েও করেন তিনি। এরপর মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। মৃতার ঠাকুমার অভিযোগ, ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি নাতনির সঙ্গে দেখা করতে দিত না তাঁদের।এখানেই শেষ নয়। নাবালিকাকে কারণে-অকারণে বকাবকি অত্যাচার করা হত বলে অভিযোগ। চাইলেও ঠাকুমার কাছে যেতে পারত না নাবালিকা। ফলে মানসিক অবসাদে ভুগছিল সে। যদিও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী কীভাবে আত্মহত্যার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। খুনের সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেননি। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা জানিয়েছেন কীভাবে ঘটলো ওই ছাত্রীর মৃত্যু তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে জানা যাবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা ছাত্রীর ঘর থেকে কোন সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। কাজেই এটি আত্মহত্যা নাকি খুন এখনই এই নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পড়াশোনা না করার কারণে মেয়েকে খুব বকেছিলেন সৎ মা। তবে কি সেই অভিমান থেকেই আত্মহত্যা করল নাবালিকা? ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের।