আচমকাই বাংলার রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসকে সরিয়ে দেওয়া ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বললেন ‘‘ওঁর (সিভি আনন্দ বোস) উপর অবিচার হয়েছে। অন্যায় হয়েছে।’’
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর এই আচমকা ইস্তফা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর জল ঘোলা শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রীও নিজেও এ নিয়ে সরব হয়েছেন। রাজ্যপালের পদ থেকে আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফার নেপথ্যে কেন্দ্রের কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে এ নিয়ে বারংবার কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগেছেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কেন হঠাৎ এ ভাবে রাজ্যপাল বদল করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এর নেপথ্যে ‘ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন। সেই একই সুর শোনা গেল মঙ্গলবারও । তাঁর কথায়, ‘‘পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়নি। এখনও দেড় বছর বাকি। নির্বাচনের আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।
প্রসঙ্গত, ধর্মতলায় পাঁচ দিনের ধর্না শেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিদায়ী রাজ্যপাল বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে আলিপুরে এক অতিথিশালায় রয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী রাজ্যপাল। সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘‘উনি কাল চলে যাচ্ছেন। তাই ওঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। আমরা একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছিলাম। আমার সঙ্গে ওঁর ভাল সম্পর্ক ছিল।’’
রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল হিসাবে এখনও শপথ নেননি আর এন রবি। বুধবার তিনি রাজ্যে আসছেন। বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজ্যে এসে লোকভবনে না থেকে বিদায়ী রাজ্যপাল কেন আলিপুরের অতিথিশালায় উঠলেন? তা নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যেই। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটা তাঁর শিষ্টাচার।’’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল আনন্দ বোসের। সে জন্য তাঁকে বিমানও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজমকাই বাগডোগরা না-গিয়ে তাঁকে দিল্লি যেতে বাধ্য করা হয়।




