সময় যত বদলাচ্ছে, ততই বদলাচ্ছে ব্রিগেডের চরিত্র। যে ব্রিগেড একসময় রাজনীতির ধ্রুবতারা ছিল, সেখানেই এখন ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ভিড় সামলাতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। কয়েকদিন আগেই লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠে ভরে গিয়েছিল ময়দান। এবার তারই প্রতিবাদে হরিনাম সংকীর্তনের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের গোসা পরিষদ। যার নেতৃত্বে থাকবেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। আগামী জানুয়ারিতে হতে এই হরিনাম সংকীর্তন। অন্যদিকে কংগ্রেস আয়োজন করেছে ‘সহস্র কণ্ঠে সংবিধান পাঠের। আগামী ২০ ডিসেম্বর দুপুর ১টায় রানি রাসমণি রোডে হবে এই ‘সহস্র কণ্ঠে সংবিধান পাঠ’ কর্মসূচি। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে যার ঘোষণা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
উল্লেখ্য গীতাপাঠের কর্মসূচিতে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যরা। এরই প্রতিবাদে সরব হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। সেই প্রতিবাদ কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবেই কংগ্রেসের ‘সহস্র কণ্ঠে সংবিধান পাঠ’-এর আয়োজন। মনে করা হচ্ছে শুধু কংগ্রেস কর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংবিধান পাঠের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। সংবিধান পাঠের অনুষ্ঠানের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে চিঠিও দেন শুভঙ্কর। চিঠি দিয়ে স্কুলগুলিতে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠের দাবি তোলেন তিনি।
পাশাপাশি মতুয়াদের তরফে আয়োজন করা হচ্ছে লক্ষ কন্ঠে হরিনাম সংকীর্তনের। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই হরিনাম সংকীর্তন কর্মসূচিকে ‘অরাজনৈতিক’ বলে দাবি করে গোসা পরিষদের সভাপতি নান্টু হালদার বলেন, “আমরা অরাজনৈতিক কর্মসূচি করতে চাই। লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম হবে। জানুয়ারিতেই এই দিন ঘোষণা করা হবে।”
প্রসঙ্গত, গীতাপাঠ অনুষ্ঠানকে ‘ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নদিয়ার সভা থেকে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘গীতাপাঠের জন্য পাবলিক মিটিং করার কী আছে? ধর্ম মানে মানবতা, ধর্ম মানে শান্তি।’
এই বিষয়ে নিয়ে মমতাবালাপন্থী মতুয়া সংগঠনের দাবি, এই কর্মসূচির সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্কই নেই। ‘কেউ গীতাপাঠ করছেন, কেউ কোরান পাঠ। কিন্তু মতুয়ারা অরাজনৈতিক।’ এখন দেখার বিষয়, মমতাবালা মতুয়াপন্থীরা হরিনাম সংকীর্তনে কাদের কাদের আমন্ত্রণ জানায়? সব মিলিয়ে গীতাপাঠের পর এবার হরিনাম সংকীর্তনকে ঘিরে বদলাচ্ছে ব্রিগেডের সমীকরণ!





