গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের বিখ্যাত ল্যাংচা ব্যবসা। বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস না পাওয়ায় অনেক দোকান নতুন করে ল্যাংচা তৈরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। যেসব ব্যবসায়ীর কাছে কিছু গ্যাস মজুত আছে, তাঁরা সর্বোচ্চ শুক্রবার পর্যন্ত দোকান চালাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।
পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ধারে সারি সারি ল্যাংচার দোকান রয়েছে। যাতায়াতের পথে ছোট গাড়ি থেকে শুরু করে দূরপাল্লার বাস—অধিকাংশই এখানে থামে। কেউ দোকানে বসে ল্যাংচা খান, আবার কেউ বাড়ির জন্য কিনে নিয়ে যান। দোকানের সামনে গাড়ির ভিড় এবং মানুষের উপস্থিতিই এই মিষ্টির জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।
তবে বর্তমানে ব্যবসায়ীরা বড় সমস্যায় পড়েছেন। ল্যাংচা তৈরির জন্য মজুত কাঁচামাল দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব নয়। গ্যাসের সংকট দ্রুত না কাটলে সেই কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শক্তিগড়ে প্রায় ১৩০টি ল্যাংচার দোকান রয়েছে এবং প্রতিদিন এখানে কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষ যুক্ত—কারিগর, দোকানের কর্মী, কাঁচামাল সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ী সবাই এর উপর নির্ভরশীল। গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ছোট ব্যবসায়ীরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ আলি হোসেন জানান, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে নতুন করে মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। দোকানে যা মজুত আছে সেটি দিয়েই আপাতত ব্যবসা চলছে। তবে সমস্যা না মিটলে শনিবার থেকে অধিকাংশ দোকান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক বাবু মণ্ডল জানান, এত বড় পরিমাণে ল্যাংচা তৈরির জন্য গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ বা কাঠের বয়লার ব্যবহার করা বাস্তবে সম্ভব নয়। এতে সময়ও বেশি লাগে এবং খরচও বাড়ে। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ডোমেস্টিক গ্যাস ব্যবহার করছেন, তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিয়ম না মেনে এই সিলিন্ডার ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




