Header AD

সরকারের উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি রাজ-শুভশ্রীর ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’! ভোট প্রচারে দেখানো হবে রাজ্যজুড়ে, ঘোষণা অভিষেকের

রাজ্য সরকারের প্রায় ৯৬ টি সামাজিক প্রকল্প রয়েছে যা বাংলার প্রায় সাড়ে ১০ কোটি মানুষকে কোনও না কোনওভাবে উপকৃত করছে। অথচ এর কোনো ডকুমেন্টেশন ছিল না এতদিন। এবার হল। সেই কাজটি করেছেন পরিচালক – বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)। প্রায় এক ঘণ্টার ডকুফিল্ম তৈরি করেছেন তিনি। “লক্ষী এলো ঘরে”। বুধবার ছবিটি দেখানো হল নন্দন (দুই ) প্রেক্ষাগৃহে। ছবি দেখতে হাজির ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সহ তৃণমূলের সাংসদ ও মন্ত্রীরা। হাজির ছিলেন টলিপাড়ার সদস্যরাও।

এই ডকুছবিতে ধরা হয়েছে কিভাবে গ্রামবাংলার আচমকা স্বামীহারা গৃহবধূ জীবনযুদ্ধে বেঁচে যাচ্ছেন রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সাহায্য পেয়ে। হৃদরোগে আচমকা স্বামী মারা যাওয়ায় দজ্জাল শ্বাশুড়ি ( সোহিনী সেনগুপ্ত) বৌমাকে( শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়) (Subhashree Ganguly) বাড়িছাড়া করতে উদ্যোগী হন। কিন্তু সেই বিধবা বৌমা লক্ষ্মী যখন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সাহায্যে শ্বাশুড়ির হাঁটুর অস্ত্রোপচার করিয়ে তাঁকে সুস্থ করে ঘরে ফেরান তখন তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন। ছবিতে গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র দেখানো হয়েছে এবং সেখানে ডাক্তার বুঝিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড-এর মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। ডাক্তারের ভূমিকা অভিনয় করেছেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয় ৬০ বছর বয়স হয়ে যাওয়ায় শ্বাশুড়ির বার্ধক্য ভাতার টাকারও ব্যবস্থা করে দেন লক্ষ্মী। আর এসব বিষয়ে সাহায্য করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধি হয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান সুজন সামন্ত ( অঙ্কুশ হাজরা) । নাবালিকা ননদ মঙ্গলাকে ( বিয়াস ভট্টাচার্য) যখন কার্যত লুকিয়ে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন তার শাশুড়ি, কুচক্রী সরখেল বাবুর( খরাজ মুখোপাধ্যায়) ষড়যন্ত্রে তখন সেই ছোট ননদকে রক্ষা করে সেই লক্ষ্মীই। দেখা যায় সবুজ সাথী সাইকেলে সেই মেয়ে স্কুলে যাচ্ছে।

আচমকা ঝড়ে গ্রামের বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলে চাল উড়ে গেলে বাংলার বাড়ি হাত ধরে নতুন বাড়ি করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। গ্রামে গ্রামে ঘুরে সুজন ও তার সহযোগীরা তৈরি করে দিচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠী। আসলে এই ছবির মধ্যে দিয়ে রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রকল্পকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছে তৃণমূল। ছবিটি দেখে খুশি হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি শেষে সমস্ত কলাকুশলীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার কিংবা যে কোন নির্বাচিত সরকারের কি কাজ সেটা তুলে ধরা উচিত। এই ডকুতে ৭ – ৮ টি প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। ৯৬ টি প্রকল্প রয়েছে। শুভশ্রী যে লক্ষী বারুই-এর চরিত্র করেছেন এদের কথা অনেকে জানেন না। মঙ্গলাদের জীবন বদলেছে এই সরকার। আবাস যোজনার টাকা কেন্দ্র দেয়নি। রাজ্য সরকার ১২ লক্ষ বাংলার বাড়ি দিয়েছে। আরও ১৮ লক্ষ মানুষকে দেওয়া হবে। বাংলার বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু উন্নয়ন বন্ধ হয়নি। “

এদিন এসআই আর নিয়ে ফের মুখ খোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, “এস আই আর চলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু অপরিকল্পিত এস আই আর এর বিরুদ্ধে। ৮০ – ৮২ জনকে হারিয়েছি।” ছবি প্রসঙ্গে পরিচালক রাজ চক্রবর্তী বলেন, “এই ছবিটা করা দরকার ছিল। কারণ রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ডকুমেন্টেশন করা প্রয়োজন ছিল।” ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন সৌভিক ভট্টাচার্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “উন্নয়নপর্ব কর্মসূচিতে এই ডকুছবি দেখানো হবে গোটা বাংলা জুড়ে।”