অনেক দিন পর ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছেন বিজেপি (BJP) নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর তারপর থেকেই দিলীপের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত আপত্তিকর পোস্ট করা হচ্ছে! ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হলেন দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumder)। অভিযোগ, অনন্যা চট্টোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী নামের অ্যাকাউন্ট থেকে দিলীপের বিবাহিত জীবন সম্পর্কে কুৎসা রটানো হচ্ছে। রিঙ্কু জানান, “অনবরত ইচ্ছাকৃত এসব চলছিল। আমি ধৈর্য্য ধরেছিলাম। কিন্তু থামছে না।” অভিযোগ পেয়েই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য গতবছর ১৮ এপ্রিল বঙ্গ বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ বিয়ে করেন দলেরই এক নেত্রী রিঙ্কু মজুমদারকে। তার তার পর থেকে একটি মহল থেকে ক্রমাগত কটাক্ষ করা হয় বিজেপি নেতার বিবাহিত জীবনকে। তবে, তাতে খুব একটা গুরুত্ব দেননি দিলীপ-রিঙ্কু। এর পরে রিঙ্কু-পুত্রের মৃত্যু পর ফের কুৎসিত মন্তব্য, গুজব ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। তবে পরবর্তিতে অবশ্য তা বন্ধ হয়। সম্প্রতি আন্দামানে হানিমুনেও গিয়েছিলেন দিলীপ-রিঙ্কু। তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষের শিকার হন দম্পতি। নতুন বছরে চমক দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। দীর্ঘদিন বাদে বৃহস্পতিবার বিজেপির কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠকও করেন। আর এসবের মধ্যেই অনন্যা চট্টোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী নামের স্যোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দিলীপের বিবাহিত জীবন নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
দিলীপপত্নী রিঙ্কু জানান, ” আমার চরিত্র, স্বামী, পরিবার, সব কিছু নিয়েই কুরুচিকর মন্তব্য, পোস্ট চলছে। অবশেষে সাইবার থানায় গিয়েছি। ওদের কড়া শাস্তি চাই।” বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় (Cyber Crime Police Station)অভিযোগ দায়ের করেছেন রিঙ্কু মজুমদার। দিলীপের কথায়, “অনেক দিন ধরেই এগুলো চলছে। বেশ কয়েক মাস ধরে এ ধরনের কুৎসা করা হচ্ছে। আমি খুব একটা সমাজমাধ্যমে থাকি না বলে আমার চোখে পড়ে না। কিন্তু আমার স্ত্রীর চোখে পড়েছে। তিনি কষ্ট পাচ্ছিলেন। আমাকে বলছিলেন যে, এঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা দরকার। আমিও তাতে সম্মতি দিয়েছি। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।”
এখন প্রশ্ন উঠছে দিলীপ ঘোষ সক্রিয় হতেই কাদের সমস্যা হচ্ছে যে এইধরনের পোস্ট হচ্ছে! বৃহস্পতিবার নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীর মতো দলবদলুদের নিশানা করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকে দলে এসেছে। এগুলো ওদের কালচার। টিএমসি থেকে কিছু লোক এসেছে। ওরা এগুলো করেছে। ” তাহলে কী দিলীপ ময়দানে নামছেন ঘোষণা করতেই, সেই আদি-নব্যের সংঘাতে এই কুরুচিকর আক্রমণ! উত্তর মিলবে পুলিশের তদন্তের পরেই।





