কসবায় ফিরল রবিনসন স্ট্রিট স্মৃতি! মৃত বাবার পচাগলা দেহ আগলে রইল মেয়ে! সোমবার পুলিশ বাড়িতে গিয়ে উদ্ধার করে বাবার পচাগলা দেহ ও খাটের তলা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় থাকা মাকে। দ্রুত বস্তা থেকে মাকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাসপাতালে ও মৃতদেহ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতার কসবা বোসপুকুরের একটি বাড়িতে থাকতেন দম্পতি সুমিত সেন, অর্চনা সেন ও তাঁদের অবিবাহিত মেয়ে সম্প্রীতি। সুমিতবাবু একটি দোকানে কাজ করতেন ও স্ত্রী গৃহকত্রী। বেশ কয়েকদিন যাবৎ পরিবারের কাউকেই দেখতে না পাওয়ায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশিদের। তাঁরা সেন পরিবারের এক আত্মীয়কে ফোন করে জানান বিষয়টি । এরপর ওই আত্মীয় সম্প্রীতিকে ফোন করে পরিবারের খোঁজ নেন। কিন্তু বারংবার যুবতী ফোনে জানাতে থাকেন যে তাঁর মা, বাবা ভালো আছেন। কিন্তু মা বাবাকে ফোন দিতে বললেই ফোন দিতে চাইতেন না, এড়িয়ে যেতেন। এরপর ওই আত্মীয় প্রতিবেশিদের সঙ্গে নিয়ে কসবার ওই বাড়িতে যান। তখন ভিতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। বহুবার ডাকাডাকির পরও কেউ দরজা না খোলায় বাধ্য হয়ে তাঁরা খবর দেন কসবা থানায়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই দুর্গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। দেখা যায়, ঘরের মধ্যে পচাগলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে সুমিত বাবুর নিথর দেহ। এরপর শুরু হয় গোটা বাড়ি তল্লাশি। তল্লাশি চালিয়ে খাটের তলা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অর্চনাদেবীকে। দেখা যায় তাঁরও দেহ একেবারে জীর্ণ হয়ে গিয়েছে। বস্তাবন্দি অবস্থায় অনেকদিন থাকার ও খাবার না পাওয়ার ফলেই তাঁর এই অবস্থা বলেই পুলিশের অনুমান। পুলিশ সূত্রে খবর, বাবা কীভাবে মারা গেলেন? কবে মারা গেলেন? তাঁর মা কোথায়? এসব প্রশ্ন যুবতীকে করা হলেও কোনও উত্তর তিনি দিচ্ছিলেন না। এরপর সেন বাড়ির আত্মীয় ও প্রতিবেশিদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, পরিবারের তিন সদস্যই মানসিক ভারসাম্যহীন। যদিও অসুস্থতার কারণেই সুমিতের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান তদন্তকারীদের । ইতিমধ্যেই ওই যুবতীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে জানা যাবে।





