আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এতটুকু জমি কাউকে ছাড়তে নারাজ রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দল। পুজোর আবহেও চলছে রাজনৈতিক তরজা। শুক্রবার পুজোর উদ্বোধন করতে শহরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শিয়ালদহের সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজো মণ্ডপে এসে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ফাঁকা আওয়াজ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিদ্যাসাগরের জন্মদিনে বিদ্যাসাগর কলেজে শ্রদ্ধা জানানোর পরে বাঙালি আবেগে শান দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
অমিত শাহকে তুলোধনা করে অভিষেক বলেন, ‘উনি সোনার বাংলা গড়ার কথা বলছেন ভালো কথা। কিন্তু তার আগে ওঁকে জবাব দিতে হবে, যে সব রাজ্যে বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় আছে, সেই সব রাজ্য উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ত্রিপুরা, অসম সোনার কেন হল না? কেন সেখানে ব্রিজ ভেঙে যায়, রাস্তা ধসে পড়ে? কিছুদিন আগে বিহারে রাস্তা ধসে গেল, কই সোনার বিহার তো বানাতে পারেনি! গুজরাট, মহারাষ্ট্রে প্রতিদিন ব্রিজ ভেঙে যাচ্ছে। সেখানে তো সোনার গুজরাট, সোনার মহারাষ্ট্র তৈরি হল না? বাংলা থেকে টাকা নিয়ে গিয়ে আপনারা উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্রে খরচ করছেন। কিন্তু সেই সব জায়গা তো সোনার উত্তরপ্রদেশ, সোনার বিহার, সোনার অসম হল না। আগে সেটা করুন, তারপর সোনার বাংলা গড়ার কথা বলবেন।‘
একই সঙ্গে ফের বাংলার বকেয়ার দাবি তুলেও সরব হন অভিষেক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর কটাক্ষ,‘সোনার বাংলা গড়ার আগে বাংলার বকেয়া যে ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছেন তা কবে ছাড়বেন আগে সেই জবাব দিন। কোন খাতে ওই টাকা আটকে রেখেছেন?’ এরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেকের তোপ, ‘অমিত শাহ যদি বলেন, আমি মিথ্যে কথা বলছি তাহলে তিনি কোথায় দেখা করতে চান বলুন। ডকুমেন্ট নিয়ে সেখানে পৌঁছে যাব।‘
মহিলাদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ নিয়েও বিজেপি নেতৃত্বের দাবিকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, যেসব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আছেন, সেখানে আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করে দেখান। সেখানে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় নেই। তাহলে, সেখানে মহিলাদের এই প্রকল্প শুরু করতে পারলেন না কেন?’
এ রাজ্যে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জিততে বিজেপি যে মরিয়া, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। পুজো উদ্বোধনে বেরনর আগে নিউ টাউনের হোটেলে বঙ্গের বিজেপি নেতাদের নিয়ে সকালে বৈঠক করেন শাহ। সেই বৈঠকে ছিলেন বাংলার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারেরা। তারপর পুজো দেন কালীঘাট মন্দিরে। পরে এই প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘আমি মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, নির্বাচনের পর এই বাংলায় এমন সরকার আসুক, যারা সোনার বাংলা নির্মাণ করতে পারবে। আমরা যাতে সেই বাংলা গড়তে পারি, সেই প্রার্থনা করেছি।‘ শাহের এই মন্তব্য নিয়েই সরব হন অভিষেক। পরে বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ব্রাত্য বসু। তিনিও এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ২০১৯ এও উনি প্রার্থনা করেছিলেন, মা শোনেননি, এবারও শুনবেন না। আগামী ২০৩১ সালেও শুনবেন না।‘





