Header AD

দুর্ঘটনার কবলে শাহজাহান মামলার অন্যতম সাক্ষী!আদালতে যাওয়ার পথে মৃত ২, চক্রান্তের অভিযোগ

বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছে জেল থেকেই বসে সন্দেশখালিতে নিজের দাপট বজায় রেখেছে শেখ শাহজাহান। এই অভিযোগের মধ্যেই এবার বড় খবর সামনে এল। দুর্ঘটনার কবলে শেখ শাহজাহানের মামলার অন্যতম সাক্ষী ভোলা ঘোষ।ট্রাক ও গাড়ির সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা বলে খবর। গুরুতর জখম অবস্থায় মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ভোলানাথ ঘোষকে। দুর্ঘটনার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ভোলার ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ ও গাড়ির চালক শাহানুরের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ন্যাজট থানার পুলিশ। এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও অন্তর্ঘাত? ইতিমধ্যে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত ট্রাক চালক। তাঁর খোঁজে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তল্লাশি। তবে এই ঘটনাটি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে পরিকল্পিত খুনের ছক রয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।
জানা গিয়েছে, বুধবার আদালতে শেখ শাহজাহানের একটি মামলার শুনানি ছিল। সেই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন এই ভোলা ঘোষ। এদিন তিনি আদালতে যাচ্ছিলেন সেই মামলারই সাক্ষী দিতে। কিন্তু সেই সময়ই ন্যাজোটের কাছে বাসন্তী হাইওয়েতে বয়ারমারি পেট্রোল পাম্পের সামনে ভোলা ঘোষ যে গাড়িতে ছিলেন, সেই গাড়িতে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক। প্রাণে বেঁচে যান ভোলা।দুই মৃতের পরিবারের দাবি এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পনামাফিক খুনের চেষ্টা।ভোলার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়।

সূত্রের খবর, মাছের ব্যবসার জন্য ভোলা ঘোষ ২০ লক্ষ টাকা পেতেন শেখ শাহজাহানের কাছে। ২০২২ সালে শেখ শাহজাহান ভোলা ঘোষকে কুড়ি লক্ষ টাকার চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাউন্স হয়ে যায়। এর পরেই বসিরহাট মহকুমা আদালতে শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে চেক বাউন্সের মামলা করেন। পাল্টা শেখ শাহজাহানও ভোলার বিরুদ্ধে মামলা করেন। বুধবার সেই মামলাতেই বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির হওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন ভোলা ঘোষ ও তার ছেলে সত্যজিৎ ঘোষ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারি মাসে রেশন দুর্নীতি মামলায় সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। সেই সময়ে ইডি আধিকারিকদের মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনায় শাহজাহানের ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছিল। এর পরে শাহজাহানের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পথে নামের সন্দেশখালির বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে নারী নির্যাতনের অভিযোগও। এর পরে রাজ্য পুলিশের হাতেই গ্রেপ্তার তিনি।