শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল এবং দলের মুখপাত্র ও কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। দুজনেই একযোগে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসআইআরকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত যে ৩১ জন সহ নাগরিক ও ৩ জন বিএলওর মৃত্যু হয়েছে তার দায় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-মনোজ আগরওয়াল, অমিত শাহ এবং সর্বোপরি বিজেপিকে নিতে হবে । কারণ শুধুমাত্র বাংলা দখলের জন্য এই ঘৃণ্য চক্রান্ত করেছে বিজেপি। প্রতিমা এবং অরূপ বলেন, আত্মঘাতী বিএলও রিংকু তরফদার লিখে গিয়েছেন তাঁর সুইসাইড নোটে, তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে বাঁচতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কমিশনের চাপে পড়ে তা সম্ভব হল না। শুধু তাই নয়, বিজেপিকে তুলোধোনা করে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন , “এরা মুসলিম অনুপ্রবেশকারী বলছে, কিন্তু মতুয়ারা কী অন্যায় করেছে? তারা তো হিন্দু!”
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে ‘আত্মঘাতী’ হয়েছেন এক বিএলও। এসআইআরের অত্যাধিক কাজের চাপে তিন বিএলওর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৩১ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এসআইআর-আতঙ্কে।এদিন সাংবাদিকদের সামনে সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল প্রশ্ন তোলেন বিজেপির সাংসদ তথা মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর কীভাবে ১০০ টাকার বিনিময়ে গুরুচাঁদ ঠাকুরের ছবি সম্বলিত ফর্ম ফিলাপ করাচ্ছেন মতুয়াদের দিয়ে। তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না সেই প্রশ্নও তোলেন সাংসদ প্রতিমা। অসমে আগামী বছর নির্বাচন থাকা সত্ত্বেও সেখানে কেন SIR হচ্ছে না সেই প্রশ্নও তোলেন সাংসদ। তাঁর কথায় অসমে বিজেপির সরকার বলে সেখানে SIR হচ্ছে না। তাহলে কি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ওপর এই ধরণের হঠকারি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে? পাশাপাশি এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে SIR-এর নামে বাংলায় জাল ভোটার ঢুকিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন অরূপ চক্রবর্তী। তবে বাংলার মানুষ সেই অপচেষ্টা রুখে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতৃত্ব।





