Header AD

মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার নির্লজ্জ প্রয়াস SIR, এবার দিল্লিতে আন্দোলন! কমিশন ও বিজেপিকে তোপ অভিষেকের

”এসআইআর বাংলা বিরোধী। মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটা নির্লজ্জ প্রয়াস।” SIR ইস্যুতে ফের সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার জনপ্রতিনিধি এবং পদাধিকারীদের নিয়ে মেগা সাংগঠনিক বৈঠক করেন তিনি। ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠকে প্রায় ২৫ হাজার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আর সেই বৈঠক থেকেই ফের একবার একযোগে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে তোপ দাগলেন তিনি। এই বৈঠকে কাজের অগ্রগতি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি যেসব জায়গায় কম কাজ হয়েছে, তা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কড়া বার্তা দেন তিনি। কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেন। তা যাতে সঠিক ভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়কদের বিভিন্ন জোন ভাগ করে অতিরিক্ত দায়িত্বও দিয়েছেন। 

আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটরক্ষা শিবির চলবে বলেও এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায়, ”যতদিন না চূড়ান্ত তালিকা বেরোয় ততদিন এই শিবির চলবে।” এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ”বিহারে কত মানুষ পোলিং স্টেশনে গিয়ে দেখেছেন তাঁদের তালিকায় নাম নেই। কিন্তু ড্রাফট রোলে নাম ছিল। এরপরেও কেটে দিয়েছে। সেখানে বিরোধীরা তা থামাতে পারেনি। তবে তৃণমূল বাংলায় এদের চুরি ধরে ফেলবে।“  কোথাও যাতে আত্মতুষ্টির জায়গা না থাকে সে বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত নেতৃত্বদের স্পষ্ট করে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। শুধু তাই নয়, ‘দিদির দূতের অ্যাপে’র মাধ্যমে বিএলএদের কাজের উপর যে নজরদারি চলছে, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ”আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। সেই কারণেই ভোট রক্ষা শিবির। অনেক জায়গায় ভালো কাজ হচ্ছে। ‘দিদির দূত অ্যাপ’ থেকে সেটা আমি দেখি। কোথায় কোন বিধায়ক, সাংসদ, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি কোথায় কে দলের কাজে সময় দিচ্ছে সেটা বলে দিতে পারি। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করার পর যে তথ্য সামনে আসবে তাতে যেন ১০০% ফর্ম সাবমিট হয়। ৯৯ নয়, ৯৮ নয়, ১০০% করতে হবে।”

এসআইআর নিয়ে এবার দিল্লিতে বড়সড় প্রতিবাদে নামছে রাজ্যের শাসকদল। সোমবার দলের নেতৃত্বের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকেই  ১০ সাংসদকে নিয়ে একটি টিম গড়ে দিলেন তিনি। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হল তাঁদের। অভিষেকের পরামর্শ, দিল্লি গিয়ে সাক্ষাৎকারের সময় চাইতে হবে কমিশনের কাছে। ‘অপরিকল্পিত’ এসআইআর-এর যাবতীয় সমস্যা পেশ করতে হবে। ১০ জনের এই দলে রয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রয়েছেন  বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, প্রকাশ চিক বরাইক, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর, সাকেত গোখলে। অভিষেক আরও জানিয়েছেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু অসুস্থ, তাই তিনি দিল্লি যেতে পারলে যাবেন, নইলে ৯ সাংসদের উপরই এই ভার দেওয়া হচ্ছে। দু’মাসে তড়িঘড়ি এসআইআরের কাজের জন্য কী কী সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা ভালোভাবে পেশ করতে হবে কমিশনের দপ্তরে। ১০ সাংসদকে সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিষেক। এরপর তাঁর চ্যালেঞ্জ, “দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলন করবে। দিল্লি পুলিশের কত ক্ষমতা আমাদের আটকাক।“

এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”বিজেপির সহকারী সংস্থা হিসাবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। বাংলায় এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিপদের সময় আমরা সর্বস্ব দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াব। রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করে অপরিকল্পিতভাবে যে এসআইআর ঘোষণা করেছে, এক মাস কাটতে না কাটতেই প্রায় ৪৫টির বেশি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। অনেকে মারা গিয়েছেন, অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। বিজেপির দম্ভ, ঔদ্ধত্য, অহংকারের জন্যেই এই ঘটনা।”  নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, ”যা করার কর। তার পরেও তৃণমূল কংগ্রেসের আসন যা ছিল তার থেকে একটা বেশি হলেও বাড়বে। ভোট শতাংশও বাড়বে।“

অন্যদিকে ক্লেম অ্যান্ড অবজেকশন পিরিয়ডে যদি কারও নথি নিয়ে সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে বুথ প্রতিনিধি-সহ সমস্ত নেতৃত্ব যাতে পাশে দাঁড়ায়, সেই বার্তাও দেন অভিষেক। শুধু তাই নয়, ড্রাফট রোল পাবলিশ হলে ইচ্ছাকৃতভাবে কারও নাম যদি বাদ যায় তাতেও মানুষের পাশে থাকবেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দলের বিধায়কদেরও টাস্ক বেঁধে দেন সাংসদ। ১৪ জনকে নিয়ে একটি টিম এদিন তৈরি করে দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আগামী ২৬ তারিখ থেকে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই টিমের সদস্যদের। কোথায় কত ফর্ম জমা হয়েছে কত বাকি রয়েছে তা দেখা ছাড়াও কাজ নিয়ে দলীয় নেতৃত্বকে রিপোর্ট দেবে এই দল। এই টিমে রয়েছেন  ফিরহাদ হাকিম- কলকাতা,  অরুপ বিশ্বাস  – হুগলি, পূর্ব বর্ধমান , পশ্চিম বর্ধমান, স্নেহাশীষ চক্রবর্তী – কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, মানস ভূঁইয়া- বাঁকুড়া,  পুরুলিয়া, মলয় ঘটক – পশ্চিম মেদিনীপুর, বেচারাম মান্না- পূর্ব মেদিনীপুর, সামিরুল ইসলাম – উত্তর দিনাজপুর, মালদা, প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়- দক্ষিণ দিনাজপুর, প্রদীপ মজুমদার – পশ্চিম বর্ধমান, দিলীপ মন্ডল – কোচবিহার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য – ঝাড়গ্রাম, সুজিত বোস – বনগাঁ, বসিরহাট, রানাঘাট, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় – মুর্শিদাবাদ, উদয়ন গুহ- জলপাইগুড়ি,  আলিপুরদুয়ারপ্রধানত দুটি কাজ 100% ফর্ম জমা পড়েছে কি না, তা দেখা। বিএলএ ২দের অ্যাক্টিভ করা।