Header AD

SIR- আতঙ্কে মৃত্যুর দায় কমিশনকে নিতে হবে!সিইও দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়ে সরব তৃণমূল

শুধু মাত্র নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির জন্য SIR আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত ৩৪ জন আত্মহত্যা করেছেন। তাদের ভুলে ভরা ওয়েবসাইট মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এর সম্পূর্ণ দায় ও দায়িত্ব কমিশনকে নিতে হবে। একটি রাজনৈতিক দলকে খুশি করতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন! ‘এসআইআর আতঙ্কে’ বিএলও-সহ একাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে কমিশনকে ফের কাঠগড়ায় তুলল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার নির্বাচন কমিশনের সিইওর দপ্তরে এই বিষয়ে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে তৃণমূল। বিএলওদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি, দুই বছরের কাজ দুই মাসে করার চেষ্টা করছে কমিশন! সেই অভিযোগও এদিন করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। ‘এসআইআর আতঙ্কে’ বাংলার বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা রোজই সামনে আসছে। শনিবার সকালে সুইসাইড নোটে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে কৃষ্ণনগরে ‘আত্মঘাতী’ হয়েছেন এক বিএলও। এখনও অবধি এসআইআরের কাজের চাপে তিন বিএলওর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। এদিন দুপুরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল সিইও দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিতে যায়। সেই দলে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ পার্থ ভৌমিক-সহ অন্যান্যরা। স্মারকলিপি জমা দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তাঁরা ।

তৃণমূলের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলকে খুশি করতেই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। “২ বছরের কাজ ২ মাসে করা হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা কমিশন করছে । প্রত্যেক বুথে ১৫০ থেকে ২০০ জন ভোটারের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের ওয়েবসাইট ভুলেভরা। কমিশনের গাফিলতিতে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে মানুষের নাম, ছবি, এপিক নম্বর সব ভুল বসানো হয়েছে। ওরা ২ কোটি মানুষের নাম বাদ দিতে চাইছে। SIR সমস্ত মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।” এদিন এমনই অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বিএলওদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ না দিয়েই কাজ করানো হচ্ছে। বিএলওদের উপর চাপ বাড়ছে। প্রাণ যাচ্ছে তাঁদের। এমনই অভিযোগ করেছেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, বাংলায় এসআইআর আতঙ্কে ৩৪ জন নাগরিক মারা গিয়েছেন। এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে দাবি তোলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিএলওদের দুর্দশা এবং অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এহেন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয়। ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকবে। সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের।