২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে অযোগ্য শিক্ষকদের নামের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের অযোগ্য শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকায় ১৮০৬ জনের নাম প্রকাশ করল তারা। ৫৪ পাতার সেই তালিকায় অযোগ্য প্রার্থীর নাম, রোল নম্বর, বিষয়(যে বিষয়ে তিনি শিক্ষকতা করতেন), বাবার নাম, প্রার্থীর জন্ম সাল সহ বিস্তারিত তথ্য সামনে এনেছে কমিশন। এদিকে তালিকা প্রকাশের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর দাবি, “নিয়োগ বাতিলের চেষ্টা করছে বিরোধীরা।”
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে বিরোধীরা। এবার এসএসসির নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষাও বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছে তাঁরা। কিন্তু এসএসসি (School service commission) যে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরীক্ষা নিয়েছে সেরকম ঘটনা দেশে আর কোথাও ঘটেনি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই দাবি করলেন রাজ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।
২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতিতে গোটা প্যানেল বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি যায় প্রায় ২৬হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর। তারপরই থেকেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে। ইতিপূর্বে সেই তালিকাও প্রকাশ করে কমিশন। কিন্তু বুধবার ফের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয় পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।। শুধু তাই নয়, পূর্ণাঙ্গ তালিকায় ঠিকানা, পিতৃপরিচয় থাকতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে আজ বৃহস্পতিবার অযোগ্যদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন।
প্রসঙ্গত, আদালতের ডেডলাইন মেনে নবম-দশম একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। এরপরই নতুন করে একাধিক মামলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট (supreme Court) সব মামলাই পাঠিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। কিন্তু বুধবার নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ নিয়ে নানা মন্তব্য ঘোরাফেরা করছে। এদিন ব্রাত্য জানান, একটা বিতর্কের একাধিক পর্যবেক্ষণ হতে পারে কিন্তু রায়ে সেরকম কোনো উল্লেখ নেই। তিনি বলেন বিচারক বা কোর্ট আলাদা হলে আইন বদলে যেতে পারে না। নতুন নিয়োগ করতে গেলে সেখানে সমস্যা পাকাচ্ছেন বিরোধীরা। শিক্ষামন্ত্রী এদিন সাফ জানান, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে নিয়ম মেনে এই শিক্ষক নিয়োগ তৃণমূলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে মনে করে প্রতিনিয়ত নিয়োগ বানচালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিরোধীরা।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ২০২৫ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সব ওএমআর শিট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ওয়েবসাইটে তা আপলোডের নির্দেশ দিয়েছে এসএসসিকে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার যে নির্দেশ রয়েছে, তা মেনেই স্কুল সার্ভিস কমিশন কাজ করছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।




