দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে ‘পথবন্ধু’ নিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জাতীয় ও রাজ্য সড়কে চিহ্নিত এক হাজারেরও বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নতুন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি এমন এলাকায় সাত জন করে প্রশিক্ষিত ‘পথবন্ধু’ থাকবেন।
পরিবহণ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা বা উদ্ধার সাহায্য না পাওয়ায় আহতদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে রাতের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এই সমস্যা মোকাবিলায় দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধারসাহায্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘পথবন্ধু’ প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রতিটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হবে, যারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন। দুর্ঘটনার খবর পেলেই তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় পাঁচ বছর আগে রাজ্য সরকার ‘পথবন্ধু’ প্রকল্প চালু করেছিল। তখন বিভিন্ন জেলায় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, জাতীয় ও রাজ্য সড়ক মিলিয়ে এক হাজারের বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা রয়েছে। সেই সব এলাকায় দুর্ঘটনার মাত্রা বিবেচনা করেই নতুন করে নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত ‘পথবন্ধু’দের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক ফার্স্ট এড বক্স দেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির রক্তপাত বন্ধ করা, ব্যান্ডেজ করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়, সে বিষয়ে তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের পরিচয়পত্র ও বিশেষ জ্যাকেট দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের চিনতে পারেন। প্রশাসনের মতে, ‘পথবন্ধু’ প্রকল্প সম্পর্কে অনেক মানুষের পর্যাপ্ত ধারণা নেই। তাই নতুন নিয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়ে মানুষকে জানানো হবে, দুর্ঘটনার সময় কীভাবে ‘পথবন্ধু’দের সাহায্য নেওয়া যায়।




