রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) শিলিগুড়ি সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও রাষ্ট্রপতি ভবনের মধ্যে তৈরি হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিচ্ছে। এই ইস্যুকে ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে বাকযুদ্ধ তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির একাধিক নেতা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) পাল্টা জবাব দিয়েছেন।
গত ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দু’বার অভিযোগ করেছেন যে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার। সেই অভিযোগের পাল্টা দিতে গিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব সামনে এনেছেন একটি পুরনো ছবি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, আর চেয়ারে বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।রবিবার ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে সেই ছবি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “ছবিটা দেখুন। সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, আর প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। তাহলে বলুন, কে কাকে অসম্মান করছে?আমরা এগুলো করি না।”এরপরই তিনি কেন্দ্রের দিকে পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে গর্জে ওঠেন “কেন শুধু বাংলাকে টার্গেট করা হবে?”
এদিন মমতার নির্দেশে ধর্মতলার মঞ্চে বীরবাহা হাঁসদা ও জুন মালিয়া রাজ্যবাসীর সামনে ছবিটি তুলে ধরেন। একই সময়ে মথুরাপুরের একটি জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই ছবি দেখিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল নাকি রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে—এমন অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু এই ছবিটা দেখুন। রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে, আর প্রধানমন্ত্রী চেয়ারে বসে। এর থেকে বড় অসম্মান আর কী হতে পারে? অপমানের কথা বলার আগে নিজেদের দিকে তাকানো উচিত।”
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গ সফরের সময় শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত না থাকাকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। বিজেপি এই ঘটনাকে প্রোটোকল ভঙ্গ বলে দাবি করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এ নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতারাও একই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।তবে শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “কোনও প্রোটোকল ভঙ্গ হয়নি।” তা সত্ত্বেও বিতর্ক থামেনি।
এই পরিস্থিতিতে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে রাষ্ট্রপতিকে লক্ষ্য করে কোনও মন্তব্য করা যাবে না। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে আক্রমণ করে কেউ কোনও কথা বলবে না। যা বলার আমি বলব।”
এদিন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে চলা ধরনামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা দেন কেন তিনি শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য, “আপনি (রাষ্ট্রপতি) কীভাবে বললেন কেউ যায়নি? আমি তো মানুষের জন্য ধরনায় বসেছি।আমি কীভাবে যাব? সেখানে শিলিগুড়ির মেয়র উপস্থিত ছিলেন।আমরা রাষ্ট্রপতির চেয়ারটাকে অসম্মান করিনা।”মমতার দাবি, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজন করেছিল এবং তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই কারণেই পুরো বিষয়টির দায় রাজ্য সরকারের উপর চাপানো ঠিক নয় বলেও তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, এসআইআরে ৬০ লক্ষের নাম বাদের প্রতিবাদে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা রবিবার তৃতীয় দিনে পড়েছে। রোজ সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলছে ধরনা কর্মসূচি। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেকথা মাথায় রেখে এদিন বিকেলে দেড় ঘণ্টা আগে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষের কথা জানান তৃণমূল নেত্রী। এদিনের হাইভোল্টেজ ম্যাচের কথা উল্লেখ করে মমতা জানান, “আজ ইন্ডিয়ার খেলা আছে। খেলাটাকে সম্মান জানিয়ে আমরা আগে মিটিং শুরু করব ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ। সঙ্গে রমজান চলছে। সব মিলিয়ে তাড়াতাড়ি করে নেব। খেলা শুরুর আগে মিটিং শেষ হবে আজ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ করে দেবে। দেড় ঘণ্টা আগে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলা খেলাধুলো ভালোবাসে সবসময়। আজ খেলা আছে। ফাইনাল।”
সেইসঙ্গে “রাজনীতির খেলা হবে ভোটের সময়।”বলেও ধরনা মঞ্চ থেকে হুঙ্কার দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।





