রক্ষকই ভক্ষক! পুলিশের এক সাব-ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ। মাস চারেক আগেই তিন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় ডিএসপিকে চিঠি লিখেছিলেন এক মহিলা চিকিৎসক। সেই অভিযোগ জানানোর পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাঁ হাতের তালুতে এমনই সব মারাত্মক অভিযোগ লিখে হাসপাতালেই নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন ওই চিকিৎসক তরুণী! এ নিয়ে হইচই বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের সাতারায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নির্দেশে ওই এএসআইকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে খবর। যদিও বিরোধীদের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না করায় আত্মহত্যা করেছেন মহিলা চিকিৎসক।যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তাতে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। কংগ্রেস ফড়ণবীস সরকারের পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেছে।
সাতরার ফলটনের উপ-জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন ওই মহিলা চিকিৎসক। গত বৃহস্পতিবার রাতে আত্মঘাতী হন ওই তরুণী। ওই চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয় হাসপাতাল থেকেই। মৃত্যুর আগে নিজের বাঁ হাতের তালুতে মহিলা চিকিৎসক লিখেছিলেন, “পুলিশ ইনস্পেক্টর গোপাল বাদনেই আমার মৃত্যুর কারণ। ও আমাকে চার বার ধর্ষণ করেছে। পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে ও আমাকে ধর্ষণ, মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করেছে।” বিজেপি অবশ্য এই ঘটনায় দৃঢ় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এমন ভয়ঙ্কর এবং স্পর্শকাতর ঘটনায় জড়িত কোনও দোষী ছাড় পাবেন না। আইনত কঠোর শাস্তি হবে তাঁদের। মহাযুতি সরকারের অংশ এনসিপি-ও জানিয়েছে, দোষীদের যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সে বিষয়টি সরকার এবং পুলিশ-প্রশাসন নিশ্চিত করবে। ইতিমধ্যে মহিলা চিকিৎসকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা। সাতারার পুলিশ সুপারের নির্দেষ, পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত খুঁজে বার করে পুরো মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, চার মাস আগে অভিযোগ জানিয়েছিলেন চিকিৎসক। তা সত্ত্বেও কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল না? গোটা ঘটনা নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূলও। বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “মহারাষ্ট্রের ঘটনায় প্রতিবাদ হচ্ছে কোথায়? আরজিকর কাণ্ডের পর পরই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। তা সত্তেও এখানে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা সব সময় নিন্দনীয়। কিন্তু সব ঘটনার প্রতিবাদ না হয়ে যারা সিলেকটিভ প্রতিবাদে বিশ্বাসী সেটা যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।”





