SIR মামলায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ব্যক্তিগত উপস্থিতির বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল বিজেপির শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা’। কিন্তু সেই আবেদন শুনে সংগঠনটিকেই কার্যত ভর্ৎসনা করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, এই বিষয়ে অযথা রাজনীতি করা চলবে না।
সোমবার এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার একসঙ্গে শুনানি হয় শীর্ষ আদালতে। সেই সময় হিন্দু মহাসভার মামলার প্রসঙ্গ উঠলে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এতে অস্বাভাবিক কী আছে? এটাই তো সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেবেন না।”
প্রসঙ্গত, গত বুধবার তথ্যগত অসঙ্গতির বা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির (Logical Discrepency) কারণে যেন ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ না যায়— এই দাবি তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই শুনানিতে প্রধান বিচারপতির এজলাসে তিনি নিজেই মামলাকারী হিসেবে সওয়াল করেন, যা ছিল নজিরবিহীন। এই বিষয়টি নিয়েই আপত্তি তুলেছিল বঙ্গ বিজেপির একাংশ নেতা, তাঁদের দাবি ছিল— মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে ‘নাটক’ করতে গিয়েছেন। তবে বাস্তবে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথোপকথনে এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়েই তিনি বক্তব্য রাখেন। শুধু তাই নয়, সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রধান বিচারপতিই তাঁকে বলেন, “পাঁচ মিনিট কেন? আপনাকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে।”
এর আগের শুনানিতে এসআইআর-এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার যে সমস্যাগুলি মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেছিলেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানান প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। শীর্ষ আদালতে মুখ্যমন্ত্রীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্জি ছিল— ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা বাদ দেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা যেন ইআরও এবং এইআরও-দের হাতেই থাকে। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আসা রোল অবজার্ভার বা মাইক্রো অবজার্ভারদের হাতে যেন সেই ক্ষমতা না দেওয়া হয়।
সোমবার শীর্ষ আদালত এই আর্জি আংশিকভাবে মেনে নির্দেশ দেয়, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-এইআরও-রাই। মাইক্রো অবজার্ভার ও অন্যান্য আধিকারিকরা কেবল সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন।





