Header AD
Trending

রাজনৈতিক সমালোচনায় ‘যান্ত্রিক’ গ্রেপ্তার নয়, কঠোর বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

সমাজমাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত বা সমালোচনা প্রকাশ করলেই পুলিশি পদক্ষেপ, এই প্রবণতায় লাগাম টানতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তেলেঙ্গানা হাই কোর্টের একটি রায় বহাল রেখে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানাল, কেবল অভিযোগ দায়ের হলেই কাউকে গ্রেপ্তার বা হেনস্তা করা যাবে না। প্রশাসনকে আগে খতিয়ে দেখতে হবে, অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি আছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টটি বাক্‌স্বাধীনতার সুরক্ষার মধ্যে পড়ে কি না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ছাড়াই ‘অতিসক্রিয়’ পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে। তাই সময় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের পরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশ এমন এক সময় এল, যখন বিভিন্ন রাজ্যে সমাজমাধ্যমে শাসকের সমালোচনা করায় গ্রেপ্তার বা হয়রানির অভিযোগ বারবার উঠছে। পশ্চিমবঙ্গেও অতীতে এমন একাধিক ঘটনার নজির রয়েছে। ২০১২ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রকে ফেসবুকে একটি কার্টুন ফরওয়ার্ড করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এক রাত লকআপে কাটানোর পর তিনি জামিন পান, তবে মামলাটি নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে ১১ বছর। পরে জানা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় আলাদা মামলা হয়েছিল, যার খবরও তিনি পাননি। ২০১৭ সালে ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের জেরে বারাসত সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অরুণাচল দত্ত চৌধুরীকেও সাসপেন্ড করা হয়। রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের পর অবসরের আগে তাঁকে কাজে ফেরানো হলেও বদলি করে উত্তরবঙ্গে পাঠানো হয়।

এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলি। এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূরের মতে, রায়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাটাও শীর্ষ আদালতের দায়িত্ব। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের মতোই অসম, উত্তরপ্রদেশ-সহ নানা রাজ্যে শাসকের সমালোচনায় দমনমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে—এই রায় সেই প্রবণতায় রাশ টানতে পারে, যদি তা বাস্তবে প্রয়োগ হয়।