Header AD
Trending

বেলডাঙা কাণ্ডে NIA তদন্ত হস্তক্ষেপ নয়, রাজ্যের আবেদনকে নাকচ করে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে NIAএর তদন্তে হস্তক্ষেপ নয়- জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুকে ঘিরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় গোলমাল, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত ২৮ জানুয়ারি তদন্তের ভার এনআইএ-কে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই এনআইএ তদন্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবারের শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত জানায়, এনআইএ তদন্তে তারা হস্তক্ষেপ করছে না। তবে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে কলকাতা হাই কোর্টকে।

বেলডাঙার হিংসার ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট জানায় কেন্দ্র চাইলে NIA-কে তদন্তের ভার দিতে পারে। এরপরই হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলায় হস্তক্ষেপ করেনি। বুধবার শীর্ষ আদালত সেই মামলা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্যের আবেদনের শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘প্রায় এক মাস আগে এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তারা এফআইআর দায়ের করেছে। তবে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা উচিত কি না, সে বিষয়ে আমরা এখনই কোনও মতামত দিচ্ছি না।” সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, আপাতত মুখবন্ধ করা খামে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে NIA-কে। এদিনের আদালতের শুনানিতে NIA দাবি করে যে, হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ সমস্ত নথি দেয়নি। এর পাল্টা রাজ্যের তরফ থেকে জানানো হয় যে, ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও কারও জামিন হয়নি।

এই ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ওই যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের দাবি ছিল, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে এবং পরে আত্মহত্যা বোঝাতে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আরও অভিযোগ ওঠে, তিনি বাংলা বলায় তাঁকে ভিনরাজ্যে আক্রমণ করা হয়। এই অভিযোগ ঘিরেই গত ১৬ জানুয়ারি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা। সুজাপুর-কুমারপুর এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেল রোকো, ট্রেন থামিয়ে প্রতিবাদ—ক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভাঙচুর, সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও উত্তেজনা থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়া ও CCTV ফুটেজের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়া হয়। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। বুধবার শীর্ষ আদালত এই মামলায় হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়ে দিল।