মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের উপরও। কারণ, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে যে সমুদ্রপথের উপর, সেই গুরুত্বপূর্ণ রুটই এখন ঝুঁকির মুখে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহণের পথ হল হরমুজ প্রণালী। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মাঝখানে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্ববাজারে মোট অশোধিত তেলের প্রায় ২০-২২ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেকই আসে এই প্রণালী হয়ে। যদি যুদ্ধের কারণে এই রুট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ভারতে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
অশোধিত তেল থেকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হয় পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি গ্যাস। যানবাহন চালানো থেকে শুরু করে রান্না, শিল্প উৎপাদন, রাস্তা নির্মাণ—সব ক্ষেত্রেই তেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ন্যাপথা ও অ্যাসফল্টের মতো উপাদানও তৈরি হয় এই তেল থেকেই। ফলে তেল আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা থেকে শিল্পক্ষেত্র—সবই বিপর্যস্ত হতে পারে।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের কিছু প্রস্তুতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আগেই জানিয়েছেন, দেশের শোধনাগারগুলির কাছে প্রায় ৭৪ দিনের তেল মজুত রাখার সক্ষমতা আছে। তাঁর মতে, এই মজুত স্বল্পমেয়াদি সংকট সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
তবুও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা অন্য জায়গায়। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, দাম বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে তুলনামূলক সস্তা তেলের সন্ধানে ভারত রাশিয়া থেকে আমদানি আরও বাড়াতে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে—আর তার ঢেউ এসে লাগতে পারে ভারতের ঘরোয়া বাজারেও।





