Header AD

আগামী নির্বাচন বিজেপিকে শূন্য করার লড়াই, মহামিছিল শেষে মঞ্চ থেকে চ্যালেঞ্জ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

‘মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এনআরসি করতে দেবেন না বলেছিলেন, ওরা পারেনি। আপনাদের বলছি, এসআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। তৃণমূলের সৈনিকরা রাস্তায় আছে। যে কোনও সমস্যা পাশে পাবেন।‘ মঙ্গলবার SIR-এর আতঙ্কে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিলের পরে জোড়াসাঁকোর মঞ্চ থেকে এভাবেই রাজ্যবাসীর পাশে থাকের আশ্বাস দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলায় শুরু হয়ে গিয়েছে SIR-এর প্রক্রিয়া। আজ, মঙ্গলবার থেকে বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম বিলির কাজ শুরু করেছেন বিএলও-রা। এরইমাঝে এদিন কলকাতার বুকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ধর্মতলায়  আম্বেডকরের মূর্তির সামনে থেকে জোঁড়াসাকো পর্যন্ত এই মিছিলে পা মেলালেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির এই নীতির সমালোচনা করে একের পর এক অভিযোগ তুলে তাদের নিশানা করেন অভিষেক।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু আধিকারীকে একটি ভিডিওতে সম্প্রতি বিএলওদের হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে কারও নাম না নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘ তৃণমূলকে ধমকে চমকে লাভ নেই। মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আমাদের যদি প্রাণ দিতে হয় আমরা তৈরি আছি। আমরা বঙ্গবাসীর কাছে মাথা নত করব। তা বলে বিজেপির কাছে , নয়া দিল্লির কাছে মেরুদণ্ড বিক্রি করব না।“ বৈধ ভোটারদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা প্রসঙ্গে বিজেপিকে এক হাত নিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের চ্যালেঞ্জ, “বাংলার ভোটারকে বাংলাদেশি তকমা? আমাদের কাছে যারা কাগজ চাইছে তারা আগে তাদের বাপ ঠাকুরদার কাগজ এনে দেখাক, তবে কাগজ চাইবে।“   

এরপর নোটবন্দি, অসমের এনারসি প্রসঙ্গ তুলে মতুয়াদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, “ ২০১৬ তে নোটবন্দি করে কত মানুষকে অসুবিধায় ফেলেছিল। মনে রাখবেন, ৮০০ টাকায় মতুয়া মহাসংঘের কার্ড আসলে আইওয়াশ। মতুয়া, রাজবংশীরা এদের ফাঁদে পা দেবেন না। অসমে হিন্দুদের যা হয়েছে। আপনাদেরও সেই পরিণতি করবে। আমরা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব।“ সোনালি বিবির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক সাফ জানিয়ে দিলেন, কোনও মতুয়াকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করতে দেব না।

এদিন ২১ জুলাই-এর ইতিহাস মনে করান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, “সেই ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আন্দোলন হয়। প্রাণ গিয়েছিল অনেকের। তারপর থেকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের আন্দোলনের কথা মনে করেছেন।“ বাংলার প্রতি মোদি সরকারের বঞ্চনার প্রতিবাদেও তোপ দাগেন অভিষেক। তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম, একশো দিনের টাকা দিল্লিতে গিয়ে কেড়ে আনব নাহলে নিজেরা ব্যবস্থা করব। আমাদের কৃষিভবন থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করা হয়েছিল। তোমরা ভাব, হাতে ক্ষমতা আছে যা খুশি তাই করব। ইডি, সিবিআই, আয়কর, কমিশন, প্যারামিলিটারি ফোর্স নিজেদের মতো করে ব্য়বহার করেছে। কিন্তু একশো দিনের টাকা ছিনিয়ে এনেছি। এসআইআর ভয়ে যারা প্রাণ দিয়েছে সকলের ভোটার লিস্টে নাম ছিল। যখন তখন যাকে খুশি বাংলাদেশি বলে বের করে দিচ্ছে। এটা চলতে পারে না। তৃণমূলের ক্ষমতা দিল্লি দেখবে। দরকারে তৃণমূল দিল্লি যাবে,” বললেন অভিষেক ।

 তারপরই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে শূন্য করার ডাক দিয়ে অভিষেকের হুংকার, “কেউ ভয় পাবেন না। বাংলাকে অপমান বঞ্চনার জবাব দেবে তৃণমূল। ২৬এর লড়াই বিজেপিকে শূন্য করার লড়াই।“