Header AD
Trending

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র, তেহরানে ফের ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ কমার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। শনিবার সকালে ফের ইরানের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা নতুন করে তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। এই হামলার জেরে রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনাও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে ইরানও পালটা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইজরায়েলের দাবি, গ্রেটার তেল আভিভ ও মধ্য ইজরায়েলের একাধিক এলাকায় নতুন করে আক্রমণ করেছে ইরান। সেই হামলার জবাব দিতেই আবার তেহরানের দিকে মিসাইল ছুড়েছে ইজরায়েলি বাহিনী। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর দাবি স্পষ্ট ভাষায় নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তাদের বক্তব্য, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিজস্ব বিষয়, এতে বাইরের কোনও দেশের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। এই পরিস্থিতিতেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে তেহরান।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, কোনও কূটনৈতিক সমাধানের আগে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে। তাঁর মতে, যদি ইরানে গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী নতুন নেতৃত্ব আসে, তাহলে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলি একসঙ্গে কাজ করে দেশটিকে সংকট থেকে বের করে আনতে সাহায্য করতে পারে। এমনকি ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

তবে ইরান এই প্রস্তাব একেবারেই মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, দেশের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র ইরানেরই।

এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে শুধু ইরানেই এখনও পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে ইরান প্রায় ৫০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রায় ২ হাজার ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েল মিলিয়ে ইরানের দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। সব মিলিয়ে আট দিন পেরিয়েও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র হয়ে জ্বলছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনও ইঙ্গিত এখনও মিলছে না।