আর পাঁচ বছর নয়। এবার থেকে এক বছর চাকরি করলেই পাওয়া যাবে গ্র্যাচুইটি। দেশজুড়ে যে নতুন শ্রমবিধি কার্যকর হল, তাতেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। ৪০ কোটি কর্মীর সামাজিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হয়েছে এই শ্রমবিধিতে। সব মিলিয়ে নানা সুবিধা পাবেন কর্মীরা। এবার থেকে সমস্ত শ্রেণির কর্মীর বিধিবদ্ধ নিয়োগপত্র পাবেন। পাশাপাশি পিএফ, ইএসআইসি, বিমা এবং অন্য সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পাবেন। সময়মতো ন্যূনতম বেতন পাবেন সব কর্মী। এছাড়া ৪০ বছরের বেশি বয়সি সমস্ত কর্মীকে বছরে একবার বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো হবে। পাশাপাশি মহিলা কর্মীদের বিষয়ে নতুন শ্রম আইনে বলা হয়েছে যে, তাঁরাও রাতের শিফটে এবং যাবতীয় কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত হতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের সম্মতি সাপেক্ষে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ৪৪টি আলাদা আলাদা শ্রম আইনকে সংগঠিত করে চারটি শ্রম কোড চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয় নতুন শ্রম আইনে। সেই শ্রম আইন এবার কার্যকর হল।
যারা চাকরি করে জীবীকা নির্বাহ করেন, তাঁদের অবসর জীবনে দু’টি সম্বল থাকে। একটি প্রভিডেন্ট ফান্ড, অন্যটি গ্র্যাচুইটি। পাঁচ বছর কাজ না করে নতুন সংস্থায় চাকরি নিলে কর্মীরা গ্র্যাচুইটির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। পাঁচ বছর টানা এক সংস্থায় কাজ করলে তবেই গ্র্যাচুইটি পান একজন কর্মী। সব থেকে বেশি অসুবিধায় পড়েন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতরা। সরকারি কর্মীদের চাকরি বদল করার নজির কম। তাই মূলত বেসরকারি চাকরিজীবীদের কথা ভেবেই গ্র্যাচুইটি ফান্ড তৈরির সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করার কথা ভাবা হয়েছে। এছাড়া সারা দেশ জুড়ে ইএসআইসি আওতা এবং সুবিধা সম্প্রসারিত হয়েছে। ১০ জনের কম কর্মী যুক্ত সংস্থার ক্ষেত্রে তা ইচ্ছাধীন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রগুলিতে একজন কর্মী থাকলেও সেক্ষেত্রে তা লাগু হওয়া বাধ্যতামূলক। নয়া শ্রমবিধি অনুযায়ী, সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ বাধ্যতামূলক। নতুন শ্রমবিধিতে, ৯-১২ ঘণ্টার শিফট করতে হতে পারে কর্মচারীদের। কোনও কর্মীকে ছাঁটাই করলে ২ দিনের মধ্যে তাঁর সব প্রাপ্য মিটিয়ে দিতে হবে। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধি তৈরি করা হবে।
তবে এই নয়া শ্রমবিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, এই নতুন বিধিতে অবহেলিত হয়েছে শ্রমিক স্বার্থ। উল্টোদিকে মালিকদের স্বার্থ বেশি সুরক্ষিত। যেমন, তিনশোর কম কর্মী রয়েছে এমন সব সংস্থা বন্ধ করতে হলে সরকারকে আর জানানোর প্রয়োজন পড়বে না। রাতারাতি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে পারবেন মালিকরা। এতে বিপণ্ণ হবেন শ্রমিক স্বার্থ। শ্রমিক ছাঁটাইয়ে সুবিধা হবে। বেতন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন থাকবে, তেমনই চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ বাড়বে, স্থায়ী কর্মসংস্থান কমবে। এখনও পর্যন্ত ২৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নয়া আইনের খসড়া গাইডলাইন মেনে নিয়েছে। বাংলা থেকে শুরু করে কয়েকটি রাজ্য এর বিরোধিতা করেছে। ফলে দেশজুড়ে এই বিধি এখনও কার্যকর করা যায়নি।




