প্রতিশ্রুতি মতোই ওড়িশায় গণপিটুনিতে মৃত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার মায়ের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিল রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৫-এর ২৫ ডিসেম্বর বিজেপি শাসিত রাজ্য ওডিশার সম্বলপুরে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের সুতি বিধানসভার চক বাহাদুরপুর গ্রামের যুবক জুয়েল রানা। নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দুই লক্ষ টাকার চেক প্রদান করেছিলেন। এরপর ২০২৬-এর ১ জানুয়ারি জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান জুয়েলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কিছু আর্থিক সহযোগিতাও করেছিলেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেন। সেই মতো মৃতের মা নাজেমা বিবিকে সুতি ১ নম্বর ব্লকের বিএলআরও অফিসে অ্যাটেন্ডেট হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
ওড়িশায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের তরফে মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “মৃতের পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি। সবরকম সাহায্য করা হবে।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায় চাকরি পেলেন মৃত জুয়েল রানার মা। মঙ্গলবার রাতে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সাংসদ খলিলুর রহমান মৃতের মায়ের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরের ২০ তারিখ জুয়েল-সহ আরও কয়েকজন যুবক ওড়িশার সম্বলপুরে কাজে যান। দিন মজুরের কাজ করতেন তাঁরা। ২৫ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ জুয়েল স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাঁর দুই সঙ্গী আরিক ও পলাশ। সেখানে তাঁরা বাংলায় কথা বলছিলেন । সেই সময় পাঁচজন দুষ্কৃতীর দল সেখানে যায়। তারা মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে অশান্তি করতে থাকে। শ্রমিকরা বৈধ পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁদের বাংলাদেশি বলে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে কোনও মতে পালিয়ে যান আরিক ও পলাশ। পালাতে পারেননি জুয়েল। তাঁকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। জুয়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।





