২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারি মাসে শেষবারের মতো বসতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই এই অধিবেশন শুরু হবে এবং সেখানেই পেশ করা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের তৃতীয় অন্তর্বর্তী বাজেট। এখনও পর্যন্ত দিনক্ষণ নির্দিষ্ট না হলেও ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন হবে বলে নিশ্চিত করেছেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ভোটমুখী বাজেটে এবার আলাদ কি চমক দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার? আমজনতার জন্য ‘দিদির প্রতিশ্রুতি’ এবার কী? চলতি বছরই বিধানসভা ভোট বলে এবারের অধিবেশনে পেশ করা হবে ভোট অন অ্যাকাউন্ট।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পেশ হবে কেন্দ্রীয় বাজেট। ওইদিন রবিবার হওয়া সত্ত্বেও সংসদ ভবনে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ পেশ করবেন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট। এই বাজেটের দিকে নজর সব মহলের। সাধারণত অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রতিবার বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ করেন। তবে তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা চলছে যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আদলে এবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই হয়তো অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করতে পারেন। অন্তর্বর্তী বাজেট হওয়ায় এতে বড় কোনও কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণা না থাকলেও, নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে একগুচ্ছ জনহিতকর প্রকল্পের ঘোষণা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই বাজেটে মূলত পাঁচটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী ও খাদ্যসাথী প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাজেট কার্যত সরকারের ‘রিপোর্ট কার্ড’ হিসেবে ভোটারদের কাছে পেশ করা হবে। পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “রাজ্য বাজেট অধিবেশনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে আর কিছুদিনের মধ্যে।” সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এই শেষ অধিবেশন শুধুমাত্র আর্থিক নথি পেশ নয়, বরং রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মূল মঞ্চ হতে চলেছে।




