২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে চাকরিহারা হয়েছেন ২৬ হাজার শিক্ষক। সেই প্যানেল থেকে ‘অযোগ্য’দের তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। ‘দাগি’র তালিকায় থাকা ১৮০৬ জন সেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। তবে এবার তাঁদের পাশে আইনিভাবে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার ধনধান্য সভাঘরে আয়োজিত শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ” ১০ বছর চাকরি করার পরেও যাঁদের আজ ‘অযোগ্য’বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের জন্য আইনি পরামর্শ নিচ্ছি। তাঁরা যাতে অন্তত গ্রুপ সি পদে চাকরি পান, তার চেষ্টা করছি। তাঁদের হতাশ হতে বারণ করব। কারণ আমরা রাজনীতি দেখে কাজ করি না। মানুষের কথা ভেবে কাজ করি। আমাদের সরকার মানবিক।”
উল্লেখ্য এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের তরফে ৭৩ জন শিক্ষককে শিক্ষারত্ন সম্মান প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা দেওয়া হয় ২০২৫ সালের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা সহ সব বোর্ড মিলিয়ে ৩৮৭ জন কৃতী ছাত্রছাত্রীকে। ১৯ জন জয়েন্ট এন্ট্রান্সের কৃতীকেও পুরস্কৃত করা হয়। তাঁদের দেওয়া হয়েছে মানপত্র, ল্যাপটপ,ট্যাব, মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষর করা ডায়েরি ও ‘জেমস অব বেঙ্গল’ সহ মোট ১৩টি বই। শিক্ষা ও খেলাধুলায় উৎকর্ষের জন্য ১২টি স্কুলকে সেরার শিরোপা প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী । শিক্ষারত্ন প্রাপকদের মধ্যে ৩৯ জন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন অধ্যাপক, ১৩ জন ভোকেশনাল ও অন্যান্য আই আই টি বিষয়ক শিক্ষক রয়েছেন।সকলের হাতে মানপত্র, শাল, ঘড়ি, স্মারক, বই ও ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায়ের মতো মনীষীদের নাম উল্লেখ করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,” বাংলাই একদিন সারা ভারতকে পথ দেখিয়েছিল। বিদ্যাসাগর যেমন বাল্য বিবাহ রদ করেছিলেন, তেমনি এই বাংলার অ্যাসেম্বলি থেকে সতীদাহ প্রথা রদ বিলও পাশ হয়েছিল। এগুলো আমাদের গর্বের জায়গা। আমরা যেন নিজেদের অস্বিত্ব ভুলে না যাই। আগে স্কুলছুটের হার খুব বেশি ছিল। ছোট মেয়েদের খুব অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হতো। কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী ইত্যাদি নানা প্রকল্পের পর শিক্ষায় স্কুলছুটের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে পেরেছি।”





