Header AD

‘পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক’—অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর

এনসিপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তার পাশাপাশি বারামতীতে তাঁর চার্টার্ড বিমান কী ভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনার জেরে বুধবার তাঁর নির্ধারিত দিল্লি সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

ঘটনার পরপরই নিজের অফিসিয়াল সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। আজ সকালে বারামতীতে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সহযাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে। এ এক অপূরণীয় ক্ষতি।” পাশাপাশি এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার ও গোটা পাওয়ার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানান তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, “এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।”

অজিত পাওয়ারের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি লেখেন, “বারামতীতে বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর অত্যন্ত দুঃখজনক। অজিত পাওয়ারের এই আকস্মিক প্রয়াণ অপূরণীয় ক্ষতি। মহারাষ্ট্রের বিকাশে তাঁর অবদান সকলে স্মরণ করবেন।“ দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী  ফোনে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজ নেন বলে সূত্রের খবর। এরপর সমাজমাধ্যমে  মোদি লেখেন, “অজিত পাওয়ার একজন জননেতা ছিলেন। তৃণমূল স্তর পর্যন্ত তাঁর গভীর যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের মানুষের সেবায় তিনি সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। পরিশ্রমী ও সর্বজন-সম্মানিত এই নেতার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।”প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় প্রশাসনিক বিষয়ে অজিত পাওয়ারের দক্ষতা এবং দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহের কথাও উঠে এসেছে।

বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড বিমানটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর। এই খবর সামনে আসতেই শোকবার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, এই বিমান দুর্ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

এদিকে বুধবার দুপুরে হুগলির সিঙ্গুরে কর্মসূচি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ওই সভার পরই তাঁর দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সর্বভারতীয় স্তরে তুলে ধরাই ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। এসআইআর ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত কোনও চিঠিরই উত্তর মেলেনি। উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর দিনই কলকাতার রাস্তায় মিছিল করেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ধারাবাহিক ভাবে এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে।

দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি জেলায় জেলায় সভার মঞ্চে ‘ভূত ভোটার’ প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, খসড়া ভোটার তালিকায় বহু জীবিত ভোটারকে ‘মৃত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই সব ভোটারের কয়েকজনেরও মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরে সঙ্গী হওয়ার কথা ছিল।