ইডি ফরেন্সিক টিম নিয়ে আই প্যাকের ফাঁকা অফিসে হানা দিয়ে কম্পিউটর থেকে নথি হাতিয়েছে। হার্ডডিস্ক , ল্যাপটপ, ফোন হাতিয়ে নিয়েছে। ঘরের মধ্যে কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল। ওরা আমাদের ভোটের কৌশল ছিনতাই করতে এসেছিল। কেন কোনও দলের আইটি সেলে হানা দেবে ইডি? এটা অন্যায়। এটা ক্রাইম, গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা। আইপ্যাক কোনও বেসরকারি সংস্থা নয়। এটা আমাদের দলের আইটি সেল। আর তৃণমূল একটা রেজিস্ট্রার্ড পার্টি। আমরা ট্যাক্স দিই। অডিট হয়। ফরেন্সিক টিমের বিরুদ্ধে FIR হবে।” আই-প্যাকের দপ্তর থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও ইডির বিরুদ্ধে একযোগে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতীক জৈনের বাড়িতে এবং সেক্টর ফাইভে আই প্যাকের অফিসে হানা দেয় ইডি। খবর পেয়েই I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির পর, সংস্থাটির সল্টলেকের দপ্তরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী । সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, সুজিত বসু। আই প্যাকের অফিস থেকে গোছা গোছা ফাইল এনে তুলে রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি। অফিস চত্বরে মোতায়েন করা হয় আধা সেনা জওয়ানদের। মোতায়েন ছিলেন কলকাতা পুলিশের কর্মীরাও।
আইপ্যাকের দপ্তর থেকে বেরিয়ে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। ইডি বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন “এরা ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। ভোটে লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে।” এর পরেই তিনি আঙুল তোলেন বিজেপির দিকে। তাঁর কথায়, “বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখনি।” এখানেই থামেননি তিনি । গোটা ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন “ভোর থেকে অপারেশন চালু করেছে। সকাল ৬টার সময়ে এখানে (আইপ্যাকের দপ্তর) শুরু হয়েছে। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে মেনে নেব না। সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।” তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এর পরে বলেন, “আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দেওয়াই? সেটা ঠিক হবে?এরা মানি পাওয়ার, মাসেল পাওয়ার ব্যবহার করছে। ” আইপ্যাকের কর্ণধার এবং দপ্তরে ইডি অভিযান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকালে রাজ্যজুড়ে সব ব্লকে মিছিল, ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল হবে লুটের বিরুদ্ধে।” এরপরই কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “দয়া করে আপনার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।”
সকাল থেকে প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। তার মধ্যেই দু’জায়গাতেই পৌঁছে গেলেন মমতা। লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে ইডির তল্লাশির মধ্যেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতীকের বাড়ির সামনে থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, “উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন!”





