Header AD

তিন বছরে তিন আইসিসি শিরোপা, ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য! নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন টিম ইন্ডিয়া

যে ম্যাচকে ঘিরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত একপেশে হয়ে গেল। আড়াই বছর আগে যে স্টেডিয়ামে লক্ষাধিক সমর্থকের মন ভেঙেছিল, রবিবার সেই মাঠেই আনন্দের জোয়ার। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ভারত। বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে এই নজির গড়ল তারা। সব মিলিয়ে তৃতীয়বার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। ভারতীয় দলের এহেন সাফল্যকে কুর্নিশ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারত জিততেই এক্স হ্যান্ডেলে ভারতকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। লেখেন, ‘টিম ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন। তোমাদের দুর্দান্ত বিশ্বকাপ জয় আমাদের গর্বিত করল।’ প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, ‘টি-২০ বিশ্বকাপের এই জয়ই বলে দিচ্ছে ভারতের স্কিল, জয়ের তাগিদ এবং দলগত দক্ষতা কতখানি। গোটা টুর্নামেন্টে অনবদ্য খেলেছে তারা। আজ প্রতিটা দেশবাসীর গর্বের দিন। তোমাদের জন্য দারুণ খুশি।’

২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ২০২৬ সালেও আইসিসি ট্রফি ঘরে তুলল ভারত। দীর্ঘ ১১ বছরের ট্রফিখরা কাটানোর পর মাত্র তিন বছরের মধ্যে তিনটি আইসিসি শিরোপা জিতে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য আরও দৃঢ় করল টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচের সম্প্রচারে বারবার দেখানো হচ্ছিল বিশ্বের নানা ভাষায় এই বিশ্বকাপ দেখানো হচ্ছে। ধারাভাষ্যকারদের কথায়, “ক্রিকেট সবার জন্য।” সূর্যকুমার যাদব, সঞ্জু স্যামসন ও অক্ষর প্যাটেলরা যেন সেই কথাই বাস্তবে প্রমাণ করলেন। শুধু স্টেডিয়ামে থাকা দর্শক নয়, ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয়ের প্রত্যাশা ছিল এই ট্রফি জয়ের।

টুর্নামেন্টের আগে থেকেই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলছিলেন— “হিস্ট্রি রিপিট করেঙ্গে।” অর্থাৎ আবার বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটানো। সেই লক্ষ্য পূরণ করল ভারত। মাঠে উপস্থিত ছিলেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনিও, যিনি ভারতের আগের বিশ্বজয়ের অন্যতম সাক্ষী। সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক সাফল্য অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছে একসময়কার অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের কথা। এখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের বিরুদ্ধে নামা মানেই প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এখন পর্যন্ত ভারতের ঝুলিতে মোট ৮টি আইসিসি ট্রফি। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আইসিসি ট্রফির সংখ্যায় ভারতের উপরে রয়েছে কেবল অস্ট্রেলিয়া, যাদের ঝুলিতে রয়েছে ১০টি শিরোপা।

ভারতের ব্যাটিংয়ে রানঝড়

ফাইনালে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। শুরুতে কিছুটা সতর্ক থাকলেও দ্রুত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ওপেনার অভিষেক শর্মা। তিনি মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতরান করেন এবং ৫২ রান করে আউট হন। পাওয়ারপ্লেতেই ভারতের স্কোর পৌঁছে যায় ৯২ রানে।

স্যামসন খেলেন অসাধারণ ইনিংস। ৪৬ বলে ৮৯ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল ৮টি ছক্কা ও ৫টি চার। ঈশান কিষানও দারুণ ব্যাটিং করে ২৫ বলে ৫৪ রান করেন। মাঝের দিকে জিমি নিশামের এক ওভারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পড়ায় কিছুটা ধাক্কা খায় ভারত। তবে শেষদিকে শিবম দুবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভারতের রান পৌঁছে যায় ২৫৫-এ।

বোলিংয়ে বুমরাহ–অক্ষরের দাপট

২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউ জিল্যান্ড। নিজের প্রথম ওভারেই রাচিন রবীন্দ্রকে আউট করেন জশপ্রীত বুমরাহ। অক্ষর প্যাটেলও দ্রুত দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে কিউয়ি ব্যাটিং লাইনআপকে বিপর্যস্ত করে দেন।

পাওয়ারপ্লের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫২ রান তুলতে পারে নিউ জিল্যান্ড। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি তারা। বুমরাহ ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন, আর অক্ষর প্যাটেল নেন ৩টি উইকেট।

শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে যায় ভারতের স্কোর থেকে ৯৬ রান পিছনে।

ইতিহাসের সাক্ষী আহমেদাবাদ

১ লক্ষ ৩২ হাজার দর্শকে ভরা আহমেদাবাদের স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকল ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের। টানা দুবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার কৃতিত্ব এর আগে কোনও দল অর্জন করতে পারেনি। দেশের মাটিতেও প্রথমবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের নজির গড়ল ভারত।

বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখে আবারও প্রমাণ করল— আন্তর্জাতিক মঞ্চে এখন ভারতেরই দাপট।