৭ পৌষ, মঙ্গলবার সকাল সাতটায় শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী ছাতিমতলায় ব্রহ্ম উপাসনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পৌষ উৎসব। তার আগে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিরাপত্তায় যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে, সেই লক্ষ্যেই কড়া নজর রেখেছে বীরভূম জেলা পুলিশ ও প্রশাসন। একই সঙ্গে প্রস্তুতির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ, শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট ও মেলা কমিটি। এখনও পর্যন্ত ১৩০০-র বেশি স্টলের প্লট বুক হয়েছে। জেলার পুলিশ প্রশাসনের আঁটোসাটো নিরাপত্তায় ২৩ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই মেলা।
রবিবার বিশ্বভারতী ও পুলিশ প্রশাসনের তরফে পূর্বপল্লীর মেলার মাঠ পরিদর্শন করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশিকা ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, পাশাপাশি নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামোগত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে বসানো হয়েছে প্রায় ৩০০টি সিসি ক্যামেরা। এর পাশাপাশি স্থায়ী সিসি ক্যামেরাও রয়েছে।
মেলা মাঠ ও সংলগ্ন এলাকায় মোট ১০টি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হচ্ছে এবং ৫টি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ২,৫০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবেন, যার মধ্যে রয়েছেন সিভিক ভলান্টিয়ার্স, পুরুষ ও মহিলা পুলিশ কর্মী এবং আধিকারিকরা। নিরাপত্তা তদারকিতে পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি ও এসডিপিও পদমর্যাদার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ জন আধিকারিক নিয়মিত নজরদারি চালাবেন।মেলা প্রাঙ্গণে খোলা থাকবে পুলিশের কন্ট্রোল রুম, যেখান থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হবে। মেলার ভিতরে ও বাইরে একাধিক পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রও থাকবে।
পৌষ মেলা উপলক্ষে প্রতিবছর শান্তিনিকেতন ও মেলা সংলগ্ন এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এবছরও তার অন্যথা হচ্ছে না। যানজট এড়াতে মেলা ঢোকার রাস্তায় একাধিক ‘ড্রপ গেট’ বসানো হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন করা হয়েছে। এ বছর প্রথমবার রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন চিহ্নিত করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে মেলা শুরু হওয়ার আগেই শান্তিনিকেতনে কার্যত উৎসবমুখর পরিবেশ। সোমবার সকাল থেকেই শান্তিনিকেতন জুড়ে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। প্রশাসনের দাবি, ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছে। বোলপুর-শান্তিনিকেতনের হোটেল, লজ, রিসোর্ট ও হোমস্টেগুলিতে পর্যটক ঠাসা।





