Header AD

রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎপ্রার্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদল, প্রথমবারে বিফল হয়ে ফের চিঠি পাঠাল শাসকদল

Droupadi Murmu

আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল। সেই উদ্দেশ্যে গত সপ্তাহে প্রথমবার রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে তখন রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে জানানো হয়, এই মুহূর্তে তাঁর সময় নেই। এরপরই আবার দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। সূত্রের খবর, নতুন চিঠিতে বলা হয়েছে তৃণমূলের ১২ থেকে ১৫ জন সাংসদের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চান। আগামী সপ্তাহে সাক্ষাতের জন্য সময় দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রপতির বাংলা সফর ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংসদদের নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য উদ্যোগ নিতে। তাঁর নির্দেশ ছিল, রাজ্যে তফসিলি জাতি, জনজাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যে সব প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যেমন পরিকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, জীবনযাত্রায় সহায়তা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ—সেগুলির বিস্তারিত তথ্য রাষ্ট্রপতিকে জানাতে হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে একটি আদিবাসী সম্মেলনে আমন্ত্রিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রথমে বিধাননগরে অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও পরে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছাকাছি গোঁসাইপুরে সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিধাননগরে অনুষ্ঠান হলে আরও বেশি মানুষের উপস্থিতি সম্ভব ছিল, কিন্তু কেন সেখানে অনুমতি দেওয়া হয়নি তা তিনি জানেন না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, তিনি বাংলার মানুষকে ভালোবাসেন এবং হয়তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাগ করেছিলেন বলেই তাঁকে স্বাগত জানাতে কেউ আসেননি।

রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি তৃণমূলকে আক্রমণ করে। পাল্টা তৃণমূল অভিযোগ তোলে যে, রাষ্ট্রপতির পদকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বিতর্কের মাঝেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ফের উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস।