Header AD

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের স্ত্রী-শ্বশুরের সম্পত্তির হিসেব চাইল তৃণমূল, তুঙ্গে তরজা

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। সমাজ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিইও আগরওয়াল–এর দপ্তর এসআইআর প্রক্রিয়ার কোনো গোলমাল ধরা পড়লে দায় ইআরও-এইআরওদের ওপর চাপিয়ে দেন। সম্প্রতি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা দলের সদস্য রিচা ঘোষের নাম ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন হিসেবে থাকায় যখন প্রশ্ন ওঠে, সিইও দপ্তর সেই দায় সরাসরি ইআরও-এইআরওদের দিকে ঠেলে দেয়। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের ডব্লুবিসিএস অফিসাররা সরব হয়ে “লক্ষ্মণরেখা” স্মরণ করিয়ে এক্সহ্যান্ডলে পোস্ট করেন। এ পোস্টের পরেই তৃণমূল কংগ্রেস পুরনো মামলার তথ্য ঘেঁটে, সিইও আগরওয়ালের স্ত্রীর নামে অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে শুরু করে। সিইও দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেয়। ভোটের সময় এ ধরনের পোস্ট-পাল্টা পোস্টের ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সরাসরি সিইও মনোজ আগরওয়ালকে নিশানা করে অভিযোগ তোলেন। মন্ত্রী দাবি করেন, সিবিআইয়ের একটি চার্জশিটে সিইওর স্ত্রীর নামে ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সেই সংক্রান্ত খবরের স্ক্রিনশট শেয়ার করে চন্দ্রিমা লিখেছেন, ‘উনিই আবার লক্ষ্মণরেখা সার্ভিস রুল বুকের কথা মনে করাচ্ছেন! যখন তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিটে ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উল্লেখ করে তখন তাঁর নৈতিকতা কোথায় থাকে?’ চন্দ্রিমার সুরেই সিইওকে নিশানা করেছেন তৃণমূলের আইটি সেলের চেয়ারম্যান দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহারা।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা সিইও মনোজ আগরওয়ালের দিকে সরাসরি আক্রমণ চালাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, “অন্যকে শিক্ষা দেওয়ার আগে মনোজ নিজে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আনুন, না হলে দায়িত্ব থেকে সরে যান।”দেবাংশু এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি ২০০৬ সালে কেরলে রাস্তা কেলেঙ্কারি এবং সেই ঘটনায় মালয়েশিয়ার একটি সংস্থার এক মহিলার আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে সমাজমাধ্যমে একটি টুইটে দাবি করা হয়, ‘বিশেষ আদালতের বিচারক চার্জশিটের অভিযোগ থেকে সম্মানজনক ভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। বিয়ের আগে থেকেই মিসেস আগরওয়াল তাঁর সম্পত্তির মালিক। শুধু তাই নয়। ১৯৮৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আসছেন। পুরো বিষয়টিই স্বচ্ছ এবং আইনসিদ্ধ বলেও দাবি করা হয়েছে ওই টুইটে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা সংশোধন ও সম্পত্তি বিষয়ক অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ তীব্র হচ্ছে, যা নির্বাচনী দপ্তরের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার প্রশ্নও উত্থাপন করেছে।