শুক্রবারই দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে ৫ প্রশ্নের জবাব চায় তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তার পর দিন শনিবার ফের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে দিল্লিতে(Delhi) সাংবাদিক বৈঠক করল তৃণমূল (TMC)। শনিবার, দিল্লিতে তৃণমূল কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়ান কমিশনের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, শুক্রবার, বৈঠকে যা আলোচনা হয়েছে, তৃণমূলের তরফে তা জানানো হয়েছে। সাহস থাকলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyenesh Kumar) সম্পূর্ণ কথোপকথন প্রকাশ করুন।
মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay) ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ে (Abhishek Bandyopadhyay) তোলা পাঁচটি প্রশ্ন নিয়ে শুক্রবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের ১০ সাংসদ। সেখানে কী কথা হয়েছে, বৈঠক থেকে বেরিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তা জানান তৃণমূল প্রতিনিধিরা। তৃণমূলের তরফে জানান হয় তাঁদের প্রশ্নের কোনও জবাব দিতে পারেনি জ্ঞানেশ কুমার। একই কথা শোনা যায় তৃণমূলের অন্য তিন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ, সাকেত গোখলের মুখেও। সাকেত গোখলের কথায়, দুনিয়ার কথা বললেও, তৃণমূলের প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেননি জ্ঞানেশ কুমার।এর পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় এর বিরোধিতা করে মন্তব্য করতে দেখা যায় জ্ঞানেশ কুমারকে।
এর প্রতিবাদে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনারকে (Chief Election Commissioner) চ্যালেঞ্জ ছোড়েন ডেরেকরা। দাবি জানান, তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠকের কথোপকথন প্রকাশ করুন। কমিশনকে কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ বলেন, সেই কথা যদি প্রকাশ পেয়ে যায়, তাহলে তা জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হবে। তাঁরা চান সত্যিটা সামনে আসুক।
পাশাপাশি দলের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, আমাদের মন খুব ভারাক্রান্ত৷ আমরা আবারও আমাদের রাজ্যের একজন নাগরিককে হারালাম। ভারত সরকার ও নির্বাচন কমিশন যে আচরণ করছে, তার জেরে তৈরি হওয়া ভয়ের কারণেই এই মৃত্যুমিছিল দেখতে হচ্ছে।
একই সঙ্গে ডেরেক অভিযোগ করেন, BLO-দের মারাত্মক চাপ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন! ফলে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। কারা কারা বিএলও-দের চাপ দিচ্ছেন, তাঁদের নাম সামনে আসুক- দাবি তৃণমূলের। এ প্রসঙ্গে সাংসদ প্রতিমা বলেন, কতজন নাগরিক মারা গিয়েছেন, কতজন বিএলও মারা গিয়েছেন, তার তালিকা যখন তুলে দিই আমরা, তখনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মুখে হাসি লেগে ছিল৷ নির্বাচন কমিশন বিএলওদের জন্য যে অ্যাপ দিয়েছে সেই অ্যাপে অনেক ত্রুটি আছে। ফলে তথ্য আপলোড করতে অনেক সময় চলে যাচ্ছে৷ এর দায় কে নেবে? কাজের চাপে আত্মহত্যা করতে হল বিএলও রিঙ্কুকে। এর দায় কার, প্রশ্ন তোলেন প্রতিমা। এরপর আরও একবার তিনি বলেন, এই মৃত্যুর দায় সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশন এবং ভারত সরকারের৷
ডেরেকের কথায়, SIR হোক। কিন্তু সময় নিয়ে পদ্ধতি মেনে হোক। এত তাড়হুড়ো কেন করা হচ্ছে? এই ভাবে দ্রুততার সঙ্গে SIR পরিচালনা করার কী অর্থ? এইসব বিষয় নিয়েই তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস যথাযথ এসআইআর চায়৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে করা হোক এই প্রক্রিয়া৷





