বঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু দিন থেকেই পথে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বের শেষের মুখে এসআইআরে ভুক্তভোগীদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরবারে। সেখানে অভিযোগ জানিয়েছেন। কথা বলেছেন সাধারণের হয়ে। কিন্তু তারপরও বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এর মধ্যে ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম স্রেফ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বিচারাধীন। বাংলায় অপরিকল্পিতভাবে এসআইআর (SIR) করার দরুণ একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পরও দেখা গেছে বৈধ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বিজেপি (BJP) ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার দুপুর দুটো থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে (Metro Channel) ধর্নায় বসেছেন। নেত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীরাও।

এদিন সকাল থেকেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল ডোরিনা ক্রসিংয়ে সভামঞ্চে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। মোতায়েন প্রচুর পুলিশ। রয়েছেন নেতা থেকে কর্মীরাও। সকাল থেকেই দলে দলে নেতা কর্মী সমর্থকরা ভিড় জমিয়েছেন সভা মঞ্চের সামনে। দলীয় স্লোগানে মুখরিত গোটা চত্বর। এদিন সকালে মিছিল করে ধরনা মঞ্চে আসেন তৃণমূলপন্থী বিএলওরা। এসআইআরে সাধারণ মানুষের এবং বিএলওদের হয়রানির প্রতিবাদে সরব তাঁরাও।

মঞ্চে এসেই তৃণমূল নেত্রী জানিয়ে দেন, “এসআইআর তালিকায় যে ২২ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল তাঁরা আসবেন মঞ্চে। মমতা বলেন, “কমিশন মৃত ঘোষণা করেছেন, তাঁরা জীবিত আছেন। তাঁদের মঞ্চে হাজির করব। কমিশনের লজ্জা রাখার জায়গা নেই। নির্লজ্জ বেহায়া বিজেপি পার্টি। তাঁদের দালাল কমিশন। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি।কমিশনের খাতায় ওঁরা মৃত। আজ তাঁদের প্যারেড করাব। ২২টি পরিবার আসবে। আমরা তাঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।”
ধরনা মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন শশী পাঁজা, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, দোলা সেন, মালা রায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া-সহ অন্যান্যরা।





