ভারতকে আপাতত এক মাসের জন্য রাশিয়ার (Russia) তেল কেনার অনুমতি দিল মার্কিন প্রশাসন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা (United States of America)। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই রাশিয়া থেকে তেল বোঝাই বেশ কয়েকটি জাহাজ রওনা হয়ে গিয়েছিল। সেই জাহাজগুলির তেলের এখন ক্রেতা নেই। এই পরিস্থিতিতে ওই জাহাজে থাকা তেল আগামী ৩০ দিনের জন্য ভারত কিনতে পারবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট জানান, যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকেই নজর রাখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ভারত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান বিশ্বজুড়ে শক্তি সম্পদের চলাচলে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই সাময়িক সিদ্ধান্ত সেই চাপ কিছুটা কমাবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্য চালু রাখতে সাহায্য করবে।” তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে আমেরিকা থেকেও তেল কেনার পরিমাণ বাড়াতে পারে ভারত। তাঁর মতে, এই সাময়িক ছাড়ের ফলে রাশিয়ার তেমন কোনও বাড়তি সুবিধা হবে না।
উল্লেখ্য, ইরান (Iran) সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দেবে। ইজরায়েল (Israel) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে কোনও জাহাজ দেখলেই তা আক্রমণ করা হতে পারে।
এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ। কারণ দেশের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক তেল আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরাক (Iraq), সৌদি আরব (Saudi Arabia), সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (United Arab Emirates) এবং কুয়েত (Kuwait) থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথেই ভারতে পৌঁছায়। পাশাপাশি দেশের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানিও এই সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল।
এই জটিল পরিস্থিতিতে ভারত পুরনো বন্ধু রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে ভারতের জলসীমার আশপাশে প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল বোঝাই রুশ জাহাজ অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেই তেল কিনলে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।
এখন অবশ্য ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের সাময়িক ছাড়পত্রে সেই আশঙ্কা আপাতত কাটল। ফলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ওই জাহাজে থাকা রুশ তেল কিনতে পারবে ভারত। তবে এরপর আবার আমেরিকার চাপের কারণে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।





