Header AD

স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে পুজোর স্লট ঘিরে ‘দুই তারকার’ চাপানউতোর, অস্বস্তিতে প্রসেনজিৎ

ছাব্বিশ সালের বাংলা ছবির মুক্তির দিনক্ষণ ঠিক করতে বুধবার ইম্পা দপ্তরে বসেছিল স্ক্রিনিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, টলিউডের অন্যতম অভিভাবক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সুপারস্টার দেব ও জিৎ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা-সহ ইন্ডাস্ট্রির বহু পরিচিত মুখ। কিন্তু সেই বৈঠকেই নাকি পরিস্থিতি একসময় এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এখন তা নিয়ে তুমুল আলোচনা।

বৈঠকের শুরুতে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে সংবর্ধনা জানানো হয়। তবে সূত্রের খবর, কিছুক্ষণের মধ্যেই সৌজন্যের আবহে ফাটল ধরে। পুজোর সিনেমা ক্যালেন্ডার নির্ধারণ ঘিরে মতবিরোধ তীব্র আকার নেয়। এমনকি বৈঠক চলাকালীনই সাংবাদিকদের সামনে দিয়ে দেব বেরিয়ে যান বলেও জানা যাচ্ছে। দেব আগেই ছাব্বিশের পুজোর স্লট বুক করে রেখেছেন। শুভশ্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে তাঁর আসন্ন ছবির অগ্রিম পরিকল্পনাও ভালো সাড়া ফেলেছে। অন্যদিকে, জিতের ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিটিও পুজোয় মুক্তির কথা। এই প্রসঙ্গ উঠতেই বৈঠকে দেব ও জিতের মধ্যে ঠান্ডা তরজা শুরু হয় বলে দাবি।

মধ্যস্থতা করতে গিয়ে নাকি অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন প্রসেনজিৎ। শোনা যাচ্ছে, পুজোর ক্যালেন্ডার নিয়ে উত্তেজনা কমাতে তিনি দেবকে ইঙ্গিত দেন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন স্তরে জানাতে। কিন্তু জবাবে দেবের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও চড়ে যায় বলে দাবি। এরপর জিৎ নিজের ছবির জন্য একটু জায়গা চাইলে, সেই অনুরোধও সহজে মেনে নেওয়া হয়নি—এমনটাই গুঞ্জন।

যদিও টলিপাড়ায় এমন মতবিরোধ নতুন নয়। আগেও নানা সময়ে সুপারস্টারদের মধ্যে টানাপোড়েন হয়েছে, আবার সময়ের সঙ্গে তা মিটেও গেছে। ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে শেষ পর্যন্ত সমাধানসূত্র বেরোবে—এমনটাই মনে করছে ঘনিষ্ঠ মহল।

উল্লেখ্য, একই সময়ে একাধিক বাংলা ছবি ও হিন্দি ছবির ভিড়ের মধ্যে যাতে ব্যবসার ক্ষতি না হয়, সেই কারণেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সিনেমার ক্যালেন্ডার ঠিক করতে গিয়েই যে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম নেবে, তা বোধহয় কেউই আশা করেননি।