Header AD
Trending

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে বিশ্বাস না করে নীরবে সেনা বাড়াল ডেনমার্ক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথায় পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছে না ডেনমার্ক। মুখে সামরিক অভিযান না করার কথা বললেও, গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে তাঁর আগ্রাসী মন্তব্য কোপেনহাগেনকে চিন্তায় ফেলেছে। তাই সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে নিঃশব্দে সেনা মোতায়েন শুরু করেছে ডেনমার্ক। সেনাদের স্পষ্ট নির্দেশ—সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে কড়া জবাব দিতে হবে, প্রয়োজনে গুলি চালিয়েও।

ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ডে জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার। প্রায় ৩০০ বছর ধরে দ্বীপটি ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশাসন চলে স্বায়ত্তশাসিত সরকারের মাধ্যমে, তবে বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি ডেনমার্ক সরকারের হাতে।

দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গত ১১ মাসে একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি প্রয়োজনে সামরিক অভিযানের কথাও বলেছিলেন। যদিও সম্প্রতি সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে তিনি জানান, বলপ্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন না।

তবু আশ্বস্ত নয় ডেনমার্ক। কারণ একই মঞ্চে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে ‘আমাদের অঞ্চল’ বলে দাবি করেন এবং স্পষ্ট করেন যে, ওয়াশিংটন এই দাবি থেকে সরে আসবে না। ডেনমার্ককে উদ্দেশ করে তাঁর মন্তব্য—“আপনারা হ্যাঁ বললে ভালো, না বললে সেটাও আমরা মনে রাখব”—কোপেনহেগেনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

ডেনমার্কের প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, মার্কিন হামলা আসন্ন—এমন নির্দিষ্ট কোনও গোয়েন্দা তথ্য নেই। হয়তো আমেরিকা হামলা নাও চালাতে পারে, কারণ তাতে মেরু অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হবে। তা সত্ত্বেও সব রকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতেই এই সেনা মোতায়েন। উল্লেখযোগ্যভাবে, সরকার ও বিরোধী দল—সবাই একসুরে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করার পক্ষে মত দিয়েছে।