আগামী রবিবার ফের বন্ধ থাকতে চলেছে বিদ্যাসাগর সেতু। ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ১৬ ঘণ্টা এই সেতু দিয়ে কোনও রকম যান চলাচল করতে পারবে না। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সেতু বন্ধ থাকায় ওই দিন যানবাহন চলবে নির্ধারিত ঘুরপথে।
ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী,
দ্বিতীয় হুগলি সেতু বন্ধ থাকাকালীন সময়ে জিরাট আইল্যান্ড থেকে এজেসি বোস রোড হয়ে বিদ্যাসাগর সেতুর দিকে আসা গাড়িগুলিকে টার্ফ ভিউ ভায়া গ্রেড রোড ধরে হেস্টিংস ক্রসিং হয়ে সেন্ট জর্জেস গেট রোড, স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে হাওড়া ব্রিজ ব্যবহার করতে হবে। বিকল্পভাবে ডানদিক দিয়ে হেস্টিংস ক্রসিং হয়ে কেপি রোড ধরেও চলাচল করা যাবে।
জওহরলাল নেহরু আইল্যান্ড থেকে কেপি রোড ধরে আসা গাড়িগুলিকে ১১ ফারলং গেট হয়ে হেস্টিংস ক্রসিং, সেন্ট জর্জেস গেট রোড ও স্ট্র্যান্ড রোড পেরিয়ে হাওড়া ব্রিজে যেতে হবে।
পূর্বমুখী যানবাহনের ক্ষেত্রে, খিদিরপুর থেকে সিজিআর রোড ধরে আসা গাড়িগুলিকে হেস্টিংস ক্রসিং থেকে বাঁদিকে ঘুরে সেন্ট জর্জেস গেট রোড ও স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে হাওড়া ব্রিজ ধরতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও কেপি রোড থেকে বিদ্যাসাগর সেতুমুখী গাড়িগুলিকে ওয়াই পয়েন্টের সামনে ঘোড়াপাস হয়ে রেড রোড ধরে হাওড়া ব্রিজে পৌঁছতে হবে।
হাওড়া ও সাঁতরাগাছির বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে কলকাতার সংযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিদ্যাসাগর সেতু, যা দ্বিতীয় হুগলি সেতু নামেও পরিচিত। রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্ন এই সেতুর কাছেই হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে হাজার হাজার যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে।
বয়সের নিরিখে বিদ্যাসাগর সেতু ইতিমধ্যেই ২৭ বছরে পা দিয়েছে। ৮২৩ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ভারতের দীর্ঘতম কেবল-স্টে সেতু। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত স্টে কেবল, হোল্ডিং ডাউন কেবল, ডেক স্ল্যাব ও এক্সপ্যানশন জয়েন্টের আয়ু সাধারণত ২৫ বছর। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন সেগুলি বদলানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
সেতু বিশেষজ্ঞদের দাবি, টানা ২৫ বছর কোনও সেতু দিয়ে যান চলাচল হলে তার সংস্কার না করলে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। সেই কারণেই এইচআরবিসি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করে সংস্কার কাজ শুরু করেছে। বিদ্যাসাগর সেতুতে মোট ১৫০টি স্টে কেবল রয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে সেগুলিই বদলানোর কাজ চলছে।
তবে টানা প্রতি রবিবার সেতু বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন রাতের বেলায় কাজ চালিয়ে সেতু পুরোপুরি বন্ধ না রেখে দিনের বেলা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে না।





