আগামী রবিবার ফের বন্ধ থাকবে বিদ্যাসাগর সেতু। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে যানচলাচল। বিকল্প পথে চলবে গাড়ি। বারবার ব্রিজ বন্ধ রাখায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাওড়ার বাসিন্দা থেকে নিত্যযাত্রীরা। সেতু বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনও সেতু দিয়ে টানা পঁচিশ বছর গাড়ি যাতায়াত করলে তার সংস্কার প্রয়োজন। না হলে যে কোনও মুহূর্তে বিপদ ঘটতে পারে। সেই কথা মাথায় রেখেই সেতু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এইচআরবিসি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করে। বিদ্যাসাগর সেতু বা দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে মোট ১৫০টি স্টে কেবল রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই স্টে কেবলগুলিকেই মূলত বদলানোর কথা। যার কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে সেতু সংস্কারের কাজ।
হাওড়া, সাঁতরাগাছির বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে শহর কলকাতার সড়ক পথে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম বিদ্যাসাগর সেতু বা দ্বিতীয় হুগলি সেতু। রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নের জন্যও এই সেতু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় ছোট বড় মিলিয়ে কয়েক হাজার গাড়ি যাতায়াত করে এই সেতু দিয়ে। ৮২৩ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ভারতে দীর্ঘতম কেবল সেতু। সেতু নির্মাণের পর থেকে ২৭ বছর কেটে গিয়েছে। ফলে সেতু নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত স্টে কেবল, হোল্ডিং ডাউন কেবল, ডেক স্ল্যাব, এক্সপ্যানশন জয়েন্ট প্রভৃতিরও বয়স ২৫ বছর হয়ে গিয়েছে। এই কারণেই সেগুলি বদলের প্রয়োজন।
ব্রিজ বন্ধ থাকার ফলে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচল করবে। বিদ্যাসাগর সেতুমুখী গাড়ি এজেসি বোস রোড ধরে জিরাট আইল্যান্ড হয়ে টার্ফভিউ ভায়া হেস্টিংস ক্রসিং থেকে সেন্ট জর্জেস গেট রোড-স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে হাওয়া ব্রিজ অথবা ডানদিকে ঘুরে হেস্টিংস ক্রসিং থেকে কেপি রোড ধরবে। কেপি রোড থেকে জে অ্যান্ড এন আইল্যান্ড থেকে বিদ্যাসাগর সেতুমুখী গাড়ি ১১ ফার্লং গেট থেকে হেস্টিংস ক্রসিং থেকে সেন্ট জর্জেস গেট রোড-স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে হাওড়া ব্রিজ পৌঁছবে। সিজিআর রোড ধরে খিদিরপুর থেকে বিদ্যাসাগর সেতুমুখী গাড়িগুলি হেস্টিংস মোড় থেকে বাঁদিক ঘুরে সেন্ট জর্জেস গেট রোড-স্ট্র্যান্ড রোড হয়ে হাওড়া ব্রিজ পৌঁছবে। কেপি রোড ধরে বিদ্যাসাগর সেতু ভায়া ঘোড়া পাসের কাছে ওয়াই পয়েন্ট ব়্যাম্প হয়ে হাওড়া ব্রিজ যেতে হলে গাড়িগুলিকে রেড রোড ধরতে হবে। তবে প্রতি রবিবার সেতু কেন বন্ধ রাখা হচ্ছে, কেন রাতের দিকে হচ্ছে না কাজ, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।





